সাধারণ বিজ্ঞান (৮ম)

জীববিজ্ঞান

দশম অধ্যায়: (উদ্ভিদের অঙ্গ সংস্থান: ফল ও বীজ)

প্রশ্ন: ফল কী?

উত্তর: ফুলের গর্ভাশয় নিষিক্ত, পরিপুষ্ট ও পরিণত হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলে।

প্রশ্ন: ফলের প্রধানত কয়টি অংশ থাকে?

উত্তর: ফলের প্রধানত দুটি অংশ থাকে- ক) ফলত্বক ও খ) বীজ।

প্রশ্ন: উৎপত্তি, প্রকৃতি, উৎস, নিষিক্তকরণ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রকারভেদ কয়টি ও কী কী সংজ্ঞা দাও।

উত্তর: ফুলের কোনো অংশ থেকে ফল সৃষ্টি হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ফলকে প্রথমত দুভাগে ভাগ করা যায় হয়েছে। যথা- ক) প্রকৃত ফল ও খ) অপ্রকৃত ফল।

প্রকৃত ফল: যে ফল শুধু ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয় তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম, ফুল, মটর ইত্যাদি।

অপ্রকৃত ফল: ডিম্বাশয় ছাড়া ফুলের অন্যান্য অংশ ফল গঠনে অংশ নিলে সেই ফলকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন- চালতা, আপেল, ডুমুর ইত্যাদি। চালতার বৃতি এবং আপেলের পুষ্পাক্ষ ফল গঠনে অংশ নেয়।

প্রশ্ন: ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?- সংজ্ঞাসহ উদাহরণ লিখ।

উত্তর: ফলের উৎস ও প্রকৃতি অনুসারে ফলকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-

ক) সরল ফল; খ) গুচ্ছ ফল ও গ) যৌগিক ফল।

সরল ফল: যে ফল একটি ফুলের একটি মাত্র গর্ভপত্র বা একাধিক যুক্ত গর্ভপত্রবিশিষ্ট ডিম্বাশয় থেকে সৃষ্টি হয় তাকে সরল ফল বলে। যেমন- আম, জাম, মটর ইত্যাদি।

গুচ্ছফল: যেসব ফল একটি ফুলের একাধিক মুক্ত গর্ভপত্রবিশিষ্ট ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয় তাকে গুচ্ছফল বলে।

ইটেরিও: ফুলের স্ত্রীস্তবকে যত সংখ্যক গর্ভপত্র থাকে তত সংখ্যক ছোট ছোট ফল উৎপন্ন হয়। এখানে একসাথে এক গুচ্ছ ফলের সৃষ্টি হয়। এ ছোট ফলের একটি গুচ্ছকে ইটেরিও বলে। যেমন- আতা, পদ্ম।

যৌগিক ফল: যখন একটি পুষ্পমঞ্জরির সব ফুল মিলে একটি ফলে পরিণত হয় তখন সে ফলকে যৌগিক ফল বলে। যৌগিক ফলের ভেতরে অসংখ্য বীজ থাকে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর ইত্যাদি।

প্রশ্ন: বীজ কী?

উত্তর: বীজ হলো নিষিক্ত ডিম্বকের পরিণত রূপ। অর্থাৎ পরিণত নিষিক্ত ও পরিপক্ব ডিম্বককে বীজ বলে। যেমন- ছোলা বীজ, ডাল বীজ, শিম বীজ ইত্যাদি।

প্রশ্ন: বীজ পত্রের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বীজকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?- সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।

উত্তর: বীজপত্রের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বীজকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

যথা- ক) একবীজ পত্রী এবং খ) দ্বিবীজ পত্রী।

একবীজ পত্রী: যেসব বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাদের একজীবপত্রী বীজ বলে। যথা- ধান, গম ও ভুট্টা ইত্যাদি।

দ্বিবীজ পত্র: যেসব বীজে দুটি বীজ পত্র থাকে তাদের দ্বিবীজ পত্রী বীজ বলে। যেমন- মটর, শিম, কুমড়া, শসা, আম ইত্যাদি।

প্রশ্ন: বীজে শস্যের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বীজকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?- সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।

উত্তর: বীজে শস্যের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বীজকে দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা: সস্যল বীজ এবং অসস্যল বীজ;

সস্যল বীজ: যেসব বীজে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য শাঁস বা সস্য বিদ্যমান থাকে তাদেরকে সস্যল বীজ বলে। এ সকল বীজে বীজপত্র খাদ্য সঞ্চয় করে না বলে পাতলা হয়। যেমন- ধান, গম, রেড়ি, ভূট্টা ইত্যাদি।

অসস্যল বীজ: যেসব বীজে সস্য থাকে না তাদেরকে অসস্যল বীজ বলে। প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে বলে এ সকল বীজের বীজপত্র বেশ পুরু হয়। যেমন- ছোলা, কুমড়া, মটর, আম, শিম ইত্যাদি।

প্রশ্ন: অঙ্কুরোদগম কী?

উত্তর: বীজ প্রয়োজনীয় পানি, অক্সিজেন, উত্তাপ ও আলো পেলে সুপ্ত ভ্রূণ জেগে উঠে বাড়তে শুরু করে এবং এক সময় বীজ ত্বক ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে। সুপ্ত অবস্থা থেকে ভ্রূণের এ জাগরণকে অঙ্কুরোদগম বলে।

প্রশ্ন: অঙ্কুরোদগম কতগুলো প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়?

উত্তর: প্রভাবক দুপ্রকার। যেমন- ক) ব্যহ্যিক প্রভাবক এবং খ) অভ্যন্তরীণ প্রভাবক।

প্রশ্ন: বীজের অঙ্কুরোদগম প্রধানত কত প্রকার ও কী কী? সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।

উত্তর: বীজের অঙ্কুরোদগম প্রধানত তিন প্রকার। যথা-

ক) মৃৎগত খ) মৃৎভেদী এবং গ) জরায়ুজ।

মৃৎগত অঙ্কুরোদগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশন: যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাদি কাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে ভ্রূণ মুকুল মাটির ওপরে কিন্তু বীজপত্র মাটির নিচে থেকে যায় তাকে মৃৎগত অঙ্কুরোগম বা হাইপোজিয়াল জারমিনেশন বলে। যেমন- আম, ছোলা, মটরশুটি, ধান, গম ইত্যাদি।

মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশন: যে অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়ায় বীজ পত্রাবকাণ্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বীজপত্র বীজত্বক ফেটে মাটি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে তাকে মৃৎভেদী অঙ্কুরোদগম বা এপিজিয়াল জারমিনেশন বলে। যেমন- তেঁতুল, লাউ, পিঁয়াজ, কুমড়া, শিম ইত্যাদি।

জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বা ভিভিপেরাস জারমিনেশন: লোনা মাটির অধিকাংশ উদ্ভিদে যে বিশেষ অঙ্কুরোদগম দেখা যায় তাকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। যেমন- গরান, কেওড়া, কাকড়া ইত্যাদি।

 ষোড়শ অধ্যায়

একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ: মরিচ গাছ

প্রশ্ন: মরিচের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: Capsicum Fruitiness.

প্রশ্ন: মরিচ কোন পদার্থের কারণে ঝাল লাগে?

উত্তর: মরিচ ক্যাপসিসিন নামক ফেনল জাতীয় পদার্থের কারণে ঝাল লাগে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে কয় ধরনের মরিচের চাষাবাদ হয়ে থাকে?

উত্তর: দু ধরনের। যথা- ক) মিঠা মরিচ এবং খ) ঝাল মরিচ।

প্রশ্ন: মরিচ গাছের কয়টি অংশ থাকে?

উত্তর: কাণ্ড, শাখা, প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল।

প্রশ্ন: মিঠা মরিচের পত্রকক্ষে কয়টি ফুল হয়?

উত্তর: একটি মাত্র ফুল হয়।

প্রশ্ন: মরিচ ফুলের দলমণ্ডলে কয়টি পাঁপড়ি থাকে এবং দেখতে কেমন?

উত্তর: দলমণ্ডলে পাঁচটি সাদা পাঁপড়ি যুক্ত থাকে এবং দেখতে চোঙের মতো।

প্রশ্ন: ফুলের পুংস্তবকে কয়টি পুংকেশর থাকে?

উত্তর: পাঁচটি।

সপ্তদশ অধ্যায়

জীব ও তার পরিবেশ

প্রশ্ন: জলজ উদ্ভিদ কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

উত্তর: যে সমস্ত উদ্ভিদ পানিতে বা পানি যুক্ত স্থানে জন্মে তাদেরকে জলজ উদ্ভিদ বলে। এসব জলজ উদ্ভিদ নদী-নালা, খাল-বিল, ডোবা-পুকুর, হ্রদ-জলাশয় ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জন্মে।

জলজ উদ্ভিদের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নিম্নোক্ত শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে।

ক) ভাসমান জলজ উদ্ভিদ: যেসব জলজ উদ্ভিদ পানির উপর ভেসে থাকে এদেরকে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ বলে। ভাসমান জলজ উদ্ভিদ দুপ্রকার। যথা-

১। মুক্ত ভাসমান এবং ২। মাটিতে আবদ্ধ ভাসমান।

১. মুক্ত ভাসমান: যেসব ভাসমান উদ্ভিদ স্বাধীনভাবে পানির উপর ভেসে চলতে পারে তাদের মুক্ত ভাসমান উদ্ভিদ বলে। কোনো কোনো উদ্ভিদে ভাসমান মূল থাকে। মূলে মূলরোম অনুপস্থিত, কিন্তু মূলথলি থাকে। পাতার উপরের পৃষ্ঠে মোমের আস্তরণ ও পত্ররন্ধ্র থাকে। যেমন- ক্ষুদিপানা, কচুরিপানা, গুড়িপানা, সিংগারা, অ্যাজোলা প্রভৃতি।

২. মাটিতে আবদ্ধ ভাসমান: যেসব উদ্ভিদের পাতা ও ফুল পানিতে ভাসমান কিন্তু মূল পানির নিচের মাটিতে আবদ্ধ থাকে তাকে মাটিতে আবদ্ধ ভাসমান জলজ উদ্ভিদ বলে। যথা- শাপলা, পদ্ম ইত্যাদি। এদের পত্রবৃন্ত বেশ লম্বা হয় যার জন্য এরা গভীর পানিতেও ভাসতে পারে।

খ) নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদ সর্বদাই পানিতে নিমজ্জিত থাকে তাদেরকে নিমজ্জিত জলজ উদ্ভিদ বলে। যেমন- পাতা, শেওলা, হাইড্রিলা, পাতা ঝাঁঝি ইত্যাদি। এদের কাণ্ড খুবই কোমল, দুর্বল, সরু ও সবুজ হয়।

গ) উভচর উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদ আংশিকভাবে জলজ এবং আংশিকভাবে স্থলজ তাদেরকে উভচর উদ্ভিদ বলে। এসব উদ্ভিদ পানির কিনারায় জন্মে কিন্তু এদের কাণ্ড পানির মধ্যে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। যথা- কেশরদাম, কলমিশাক, হেলেঞ্চা ইত্যাদি।

রিতা পারভীন হেপী

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s