ঘাড় ব্যথার আধুনিক চিকিত্সা

রাতে সুস্থ মানুষ শুয়ে আছেন, সকাল বেলায় আর ডান-বাম ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। এর কারণ কি জানেন? হয়তো ঘুমের ঘোরে আপনার ঘাড়ের অবস্থান ঠিক ছিল না অথবা রোগের বহি:প্রকাশ। ঘাড় ব্যথা বিভিন্ন রোগের বহি:প্রকাশে হতে পারে। যেমন—স্পনডাইলোসিস, আথ্রাইটিস বা বাত জনিত সমস্যা, ফাইব্রোমায়েলজিয়া ডিক্স প্রলাস্প অথবা যখন ব্যথা হাতে চলে যায় নিউরাইটিস এবং নিডর্যালজিয়া।

 কোথায় ব্যথা অনুভব হলে বলা  যাবে রোগীর ঘাড়ে সমস্যা?

 ঘাড়ব্যথা একেকজনের একেক রকম হতে পারে। ব্যথা প্রথমত শুরু হয় ঘাড়ের নিচের অংশের যে কোনো একদিকে। হয় ডান দিকে অথবা বাম দিকে। অনেক সময় ব্যথা শুরু হয় মাঝখান থেকে। কিছুদিনের মধ্যে ব্যথা ছড়িয়ে যায় কাঁধের চারপাশে। তারপর কনুইয়ের উপরের অংশে অথবা ছড়িয়ে যেতে পারে হাতের কব্জি ও আঙুল পর্যন্ত। হাতে আঙুল ঝিনঝিন ও নাম্বনেস অনেকের হাতের বোধশক্তি কমে যায়। অনেক রোগী মনে করেন তার হাতের ওপর আরও একটি স্তর আছে। কারও কারও হাত দুর্বল হয়ে যায়। এতে ঘাড়ে ব্যথা না হয়ে কিছু ব্যথা অনুভব হতে পারে বাহু থেকে। ঘাড় ব্যথার সঙ্গে মাথার ব্যথারও সম্পর্ক আছে। এ ব্যথা মাথার একপাশে, মাথার পেছনে, কারও কারও মাথার দু’পাশে অনুভব করে। এ ব্যথাকে বলে সারভাইকো জোনিক মাথাব্যথা। ব্যথার শুরুটা রহস্যজনকভাবে কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে। আবার কমে যাওয়াটাই রহস্যজনকভাবে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ রোগীর ব্যথা তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।

 ঘাড় ব্যথার কারণ

 সারাদিনে যেসব কাজ আমরা করে থাকি তার বেশিরভাগ কাজ করা হয় সামনে ঝুঁকে বা রিলাক্সভাবে বসা অবস্থায় তখন মাথা ও ঘাড় প্রোটুটেড বা সামনে আগানো থাকে।। যদি এই অবস্থান দিনের পর দিন চলতে থাকে তাহলে ঘাড়ের অবস্থানগত পরিবর্তন হয়। এতে লিগামেন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ফলে দীর্ঘদিন বারবার মাংসপেশী যখন অতিরিক্ত চাপে থাকে তখন এদের মধ্যে একধরনের ইনজুরি ও ড্যামেজ শুরু হয়। ফলে ঘাড় ব্যথা শুরু হয়। আর এসব ঘটনার মূল কারণ হচ্ছে রোগীর দৈনন্দিন কাজের মধ্যে অবস্থানগত ত্রুটির জন্য।

 রোগের কারণে স্পনডাইলোসিস, আথ্রাইটিস বা বাত জনিত সমস্যা, সারভাইক্যাল রিবস, ফাইব্রোমায়েলজিয়া ডিক্স প্রলাস্প, নিউরাইটিস নিডর্যালজিয়া।

  কাঠামোগত কারণ

—ভুলভাবে দীর্ঘসময় বসা অবস্থায় থাকার কারণে বিশ্রাম ও বিছানায় শোয়ার কারণে।

—সঠিক বিছানা সঠিক বালিশ না ব্যবহার করার জন্য কঠিন বা পরিশ্রমের কাজ করার পরে হঠাত্ রিলাক্সে যাওয়ার কারণে বিসদৃশভাবে কাজ করলে।

—চেয়ার টেবিল বা কম্পিউটার উচ্চতা সঠিক না হলে

বসার ভঙ্গিমা ঠিকমত না হলে এবং ডেস্কে কাজ করার অবস্থাগত পদ্ধতি ভুল হলে কোমর, ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা সৃষ্টি হয়।

 ঘাড় ব্যথায় ম্যানুয়াল থেরাপি

ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা : গবেষণা করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘাড় ব্যথা রোগী ফিজিওথেরাপি নিয়ে ভালো আছে। তবে বুঝতে হবে কি ধরনের ফিজিওথেরাপি দরকার। ঘাড় ব্যথার সঠিক চিকিত্সা হচ্ছে ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশ থেরাপি। ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশ থেরাপি দ্বারা রোগী তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।

 যেভাবে থেরাপি কাজ করে

 ম্যানুয়াল থেরাপি : প্রথমেই দরকার অবস্থানগত পরিবর্তন বা সঠিকীকরণ যে অবস্থানে রোগীর ব্যথা কম থাকে বা হাতের ব্যথা কমে ঘাড়ে আসে। একেই বলে সেন্ট্রালাইজেশন বা ব্যথা কেন্দ্রীভূতকরণ। আর রোগীকে অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে শুরুমাত্র একটি মুভমেন্ট নির্বাচন করতে হবে, যে মুভমেন্টটি রোগীর সমস্যাটিকে অর্থাত্ ঘাড়ের অবস্থানটাকে সঠিক করে ফলে ব্যথা কমে যায়। এভাবেই যদি রোগী ১০-১৫ দিন প্রতিদিন ৪-৫ বার করে তাহলে ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে এবং রোগী সাধারণ কাজে ফিরে যেতে পারবে। তবে রোগীকে ব্যয়ামটি দিনে ২-৩ বার বেশ কিছুদিন করতে হবে। এ পদ্ধতির এ নাম ম্যাকেঞ্জি যা বিশ্বে বিশেষভাবে সমাদৃত।

 ম্যানুপুলেশন : এই প্রক্রিয়াটিও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ প্রক্রিয়ায় রোগীকে প্রথমে ব্যথামুক্ত পাশকে রোটেশন করে শোয়াতে হবে এবং এ অবস্থায় থ্রাস্ট বা জোড়ে চাপ দিতে হবে, যাতে ঘাড়ের অবস্থান সঠিক জায়গায় এসে পড়ে। ফলে ব্যথা সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়।

ডা. মো. শাহাদত্ হোসেন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s