হাতের ব্যথায় অকুপেশনাল থেরাপি

 মি. তালিব কিছুদিন ধরে তাঁর ডান কবজির গোড়ার দিকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। প্রথমত তিনি ব্যথাটি খুব একটা আমলে নেননি। একপর্যায়ে দেখেন যে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা এবং এ ব্যথা ক্রমেই কবজির দিক থেকে বাহুতে ছড়িয়ে যাচ্ছে। গোড়া আস্তে আস্তে ফুলে উঠছে, হাতে শক্তি কম মনে হচ্ছে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে কোনো কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে।

 ব্যথার কারণে দৈনন্দিন কাজকর্মে অনেক সমস্যা হচ্ছে; যেমন_বোতলের মুখ খোলা, কি-বোর্ডে টাইপ করা, কাপড় ধোয়া এবং চাপা, লেখা, বোতাম খোলা-লাগানো, জগ থেকে পানি ঢালা, ভারী বস্তু ওপরে তোলা ইত্যাদি।

 তিনি একজন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের কাছে গেলেন। বিভিন্ন টেস্টের একপর্যায়ে থেরাপিস্ট তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলিটি অন্য সব আঙুল দিয়ে চেপে ধরে কনিষ্ঠ আঙুলের দিকে বাঁকাতে বললে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথ্যা অনুভব করলেন। এ পরীক্ষা থেকে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট নিশ্চিত হলেন যে তিনি ডি-কোয়ারভেন টিনোসাইনোভাইটিসে আক্রান্ত। ডি-কোয়ারভেন টিনোসাইনোভাইটিস মূলত কবজি বা বৃদ্ধাঙ্গুলির গোড়ার দিকে অ্যাবডাক্টর পলিসিস লংগাস ও এঙ্টেনসর পলিসিস ব্রেভিস নামের দুটি মাংসপেশির শক্ত রজ্জু বা এর আবরণের এক ধরনের প্রদাহজনিত বা ইনফ্ল্যামেটরি রোগ।

 মি. তালিব একজন ইলেকট্রনিক মেকানিক এবং তাঁকে প্রতিদিন তাঁর ডান হাত দিয়ে অনেকবার বিভিন্ন পার্টসের স্ক্রু খুলতে ও লাগাতে হয়। তিনি কলম খুব শক্ত করে ধরে লেখালেখি করেন এবং কম্পিউটারেও কাজ করেন। মূলত এসব কাজের জন্যই তিনি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও ডি-কোয়ারভেন টিনোসাইনোভাইটিসের মূল কারণ অজানা, তবে বৃদ্ধাঙ্গুলির অতিরিক্ত ব্যবহার বা এর ওপর সরাসরি কোনো ধরনের আঘাত, বৃদ্ধাঙ্গুলির বারবার ব্যবহার যেমন_দীর্ঘক্ষণ টাইপ করা, বাগানে মাটি নিংড়ানো, হাতুড়ি পেটানো ইত্যাদি, লেখার সময় কলম খুব শক্ত করে ধরা, মোবাইল ফোনে অনেক বেশি লেখা_এ ধরনের বিভিন্ন কাজ, যাতে আপনার বৃদ্ধাঙ্গুলির বারবার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, সেগুলো এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তা ছাড়া আর্থ্রাইটিসের কারণেও এ রোগ হতে পারে। রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়।

 প্রথমত, রোগ নির্ণয়ের পর তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কবজিকে স্প্লিন্টের মাধ্যমে ব্যথার ধরন অনুযায়ী তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্রামে রাখা হয়। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্যাসিভ ও অ্যাকটিভ অ্যাসিসটিভ থেরাপিউটিক টেকনিক ব্যবহারের মাধ্যমে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কবজির জোড়ার নাড়ানোর সীমা ঠিক রাখা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন রকমের টেবিল টপ অ্যাকটিভিটিসের মাধ্যমে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির কাজ করার শক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফাইনমোটর থেরাপিউটিক অ্যাকটিভিটিসের মাধ্যমে হাতের সূক্ষ্ম কাজের দক্ষতার ওপরও লক্ষ রাখা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্যসম্পন্ন কাজে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আবার ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজে সাবলীলতা ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর চতুর্থ পর্যায়ে তাঁর কাজকর্ম সহজতর করার জন্য এবং আবার যাতে রোগটি আর না হয় সে লক্ষ্যে তাঁর প্রাত্যহিক কাজকর্মে কিছু পরিবর্তন করে দেওয়া হয়; যেমন_প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন যন্ত্রের হাতলের পরিবর্তন সাধন করা হয়, কলমের নরম গ্রিপারের ব্যবস্থা করে দেওয়া, অ্যান্টি আরএসআই কি-বোর্ড ব্যবহার করতে বলা হয় এবং ব্যবহারের সময় যাতে কবজির ওপর বেশি চাপ না পড়ে, সে জন্য নরম প্যাডের ব্যবস্থা করা হয় এবং শক্তি কম খরচ করে ও ক্লান্ত না হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 মো. মোহসিউর রহমান দীপন

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s