ডাব আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি ফল। ফলটি কচি অবস্থায় সবুজ এবং পরিপকস্ফ অবস্থায় হলদেটে ভাব ধারণ করে। ডাব সাধারণত গ্রাম অঞ্চলে বেশি থাকলেও এর বাজার মূলত শহরকে ঘিরে। ঢাকা শহরে শুধু ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন লোকও কম নয়। এ থেকে সহজেই আঁচ করা যায় ডাবের জনপ্রিয়তা। চার হাজার বছর আগ থেকে ডাব পুষ্টি প্রাপ্তির একটি প্রাকৃতিক উত্স হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। ফলটি সত্যিকার অর্থেই পুষ্টির আধার। এক কাপ (৮০ গ্রাম) ডাবের পানিতে ক্যালোরির পরিমাণ ২৮৩। মোট ২৭ গ্রাম ফ্যাট, সোডিয়াম ১৬ মি. গ্রাম, প্রোটিন ৩ গ্রাম, চিনি ৫ গ্রামসহ নানা খাদ্য উপাদানে সমৃদ্ধ। ডাবে প্রচুর এসিডও থাকে। নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে মুখে খাবারের স্বাদ ও বৈচিত্র্য পাওয়া যায়। এছাড়াও ডাবের পানি উচ্চ ইলেক্ট্রলাইটিস ক্ষমতাসম্পন্ন। যা ডায়রিয়া ও পানি শূন্যতায় ভোগার সময় মানুষকে সেসব থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে। যাতে মানুষের স্বাভাবিক ওজন ঠিক থাকে অথবা বৃদ্ধি পায়। ডাবের পানি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও তুলনাহীন। ডাবের পানি পান করলে ডায়াবেটিসের উন্নতি হয় এবং তীব্র ক্লান্তিতে কচি ডাবের পানি পান খুব সহজেই মানুষের শরীরে ফিরিয়ে আনে সতেজতা, কর্ম ক্ষমতা, নিয়মিত কর্মশক্তি বৃদ্ধি, ত্বকে নতুন প্রাণের সংহার ও ভাঁজপড়া বা বলিচিহ্ন দূর করতে খুবই কার্যকর কচি ডাবের পানি। ডাবের পানিতে বিদ্যমান পটাসিয়াম স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর অত্যন্ত উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। বর্তমানে আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞান বলছে ডাবের পানি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত একটি পানীয়। এটি একমাত্র প্রাকৃতিক পানীয় যা আমাদের শরীরে নিরাপদে রক্ত প্রবাহ সঞ্চালনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তাই আপনি আপনার দৈনন্দিন ফলের তালিকায় ডাবকে সংযুক্ত করতে পারেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই।
Filed under: কি খাবেন |
Leave a Reply