ফেসবুক নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

 আজকের দিনের টেক-সচেতন কোনো ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞেস করেন তার ফেসবুক আইডি আছে কি না—এর উত্তর ‘না’ হবে, এটা খুঁজে পাওয়া ভার। কারণ আজকাল ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রসহ প্রায় সব কাজেই ফেসবুক চাহিদা মেটাচ্ছে। এই যেমন চ্যাটিং, ভয়েস কল, কিংবা সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো দূরে থেকেও কাছে থাকা। আর ফেসবুকের জনপ্রিয়তার প্রমাণ আপনারা গত কয়েক বছরের কার্যক্রমের দিকে নজর দিলেই পেয়ে যাবেন। ইন্টারনেট ওয়ার্ল্ড জায়ান্ট গুগলকে কে না চেনে? সেই গুগলকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি ভিজিটেড সাইট হিসেবে উঠে এসেছে ফেসবুক। অবশ্য ২০১০-এ এই ফেসবুক ১০-এর ঘরেই ছিল এবং বিগত তিন-চার বছর ধরে তারা সামনেই এগোচ্ছে।

 ফেসবুকের জনপ্রিয়তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গুগল প্লাস মাঠে আছে, তাই দেখা যাক, গুগল আর এফবির খেলায় কে জেতে। ফেসবুক আইডির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। নিচে দেখা যাক এর প্রতিরোধের কিছু উপায়, যা অবলম্বন করলে হয়তো আপনি ক্ষতি থেকে আপনার আইডি রক্ষা করতে পারবেন না, কিন্তু অনেকটা সুবিধাজনক পর্যায়ে রাখতে পারবেন। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বড় কারণগুলো হলো security settings-গুলো enable না করা, যা ফেসবুক অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখে এবং বিভিন্ন স্প্যাম লিংকে ক্লিক করা বা শেয়ার করা। কী করলে এগুলো থেকে দূরে থাকা যাবে, সে প্রসঙ্গে নিচে বিস্তারিত বৃত্তান্ত দেয়া হলো।

  সাবধানে থাকুন

 বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের খুবই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক। বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। নানা বয়সের মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করলেও মূলত তরুণ প্রজন্মই এটি বেশি ব্যবহার করে। তরুণদের কাছে ফেসবুকের আকর্ষণ অনেক বেশি। আবার অনেক সময় দেখা যায়, ফেসবুকের নীতিমালা না জানা বা নীতিমালা না পড়ার কারণে অনেক কম বয়সী ছেলেমেয়ে ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট খুলে তা ব্যবহার করে। ফেসবুকে হাজারো সুবিধা থাকার পরও কম বয়সী ব্যবহারকারী ও মেয়েরা এখানে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকারও হয়। যেহেতু ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা কঠিন, তাই এতে অনেক সময় অনেক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারকারীর সব তথ্য (প্রোফাইল ইনফো) তার বন্ধু (ফেসবুক ফ্রেন্ড) না হয়েও অনেকে দেখতে পারে বা একজনের ব্যক্তিগত ছবির অ্যালবাম অনাকাঙ্ক্ষিত কেউ দেখে ফেলে। এসব সমস্যার সমাধান করা যায় সহজেই। তবে এর জন্য ব্যবহারকারীকে ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রাইভেসির সুবিধা এতে রয়েছে।

  ব্যাকআপ রাখুন

 ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেও যেন আপনার ছবি, ভিডিও, নোট ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য ফেসবুকে রয়েছে ব্যাকআপ রাখার ব্যবস্থা। ফেসবুকের ব্যাকআপ রাখার জন্য প্রথমে ওপরে ডান পাশের Account থেকে Account Settings-এ ক্লিক করুন। এখন সবার নিচে Download a copy-এ ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে Start My Archive-এ ক্লিক করুন। এখন আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের একটি ব্যাকআপ প্রোফাইল তৈরি হতে থাকবে। ব্যাকআপ প্রোফাইল তৈরি হয়ে গেলে আপনার ই-মেইল ঠিকানায় একটি মেইল যাবে। তারপর আবার Account থেকে Account Settings-এ ক্লিক করে Download a copy-এ ক্লিক করে আপনার ফেসবুকের ব্যাকআপ প্রোফাইলটি ডাউনলোড করতে পারবেন। ডাউনলোড হওয়ার পর জিপ ফাইলটি আনজিপ করুন। এখন index ফাইলটি ওপেন করলে আপনি আপনার ফেসবুকের পুরো প্রোফাইল (ছবি, ওয়াল, মেসেজ, ফ্রেন্ড) দেখতে পারবেন। ফলে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলেও আপনার তথ্যগুলো হারিয়ে যাবে না।

  সিকিউরিটি কোয়েশ্চেন

 ডান পাশের Account থেকে Account Settings-এ ক্লিক করুন। এখন বাঁ পাশ থেকে security-তে ক্লিক করুন। দেখবেন শুরুতেই আছে সিকিউরিটি কোয়েশ্চেন। এখানে একটি প্রশ্ন সিলেক্ট করে তার উত্তর সেভ করে রাখুন। পরে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে বা কেউ পরিবর্তন করে দিলে এর মাধ্যমে লগ ইন করতে পারবেন।

  মোবাইল নম্বর যোগ করা

 ফেসবুকে মোবাইল ফোন নম্বর যোগ করলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যদি কখনও চুরি হয়ে যায়, তাহলে মোবাইল নম্বর দিয়ে তা উদ্ধার করতে পারবেন। আবার আপনি ইচ্ছা করলে ফেসবুকের খবর বা নোটিফিকেশনসগুলোও মোবাইল ফোনে পেতে পারেন বিনা মূল্যে। এজন্য প্রথমে ওপরে ডান পাশের Account থেকে Account Settings-এ গিয়ে বাঁ পাশ থেকে Mobile-এ ক্লিক করুন। এখন Add a Phone লিংকে ক্লিক করুন। নতুন উইন্ডো এলে Mobile Carrier-এ বাংলালিংক, সিটিসেল, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল বা রবি নির্বাচন করে Next-এ ক্লিক করুন। আপনার মোবাইল নম্বরটি ফেসবুক প্রোফাইলে যোগ করতে না চাইলে Add this phone number to my profile বক্স থেকে টিক চিহ্নটি তুলে দিন। আপনার মোবাইল থেকে F লিখে 32665-এ মেসেজ দিন। ফিরতি মেসেজে আপনার কাছে একটি কোড নম্বর আসবে, সেটি কোড বক্সে লিখে Next-এ ক্লিক করুন।

  অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা

 আপনার ফেসবুকের ই-মেইল ঠিকানা, পাসওয়ার্ড যদি সবাই জেনে যায়, তাহলেও কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। এ জন্য প্রথমে ফেসবুকে লগইন করে ওপরে ডান পাশের Account থেকে Account Settings-এ ক্লিক করুন। এখন বাঁ পাশ থেকে security-তে ক্লিক করুন। নতুন পেজ এলে Login Notifications-এর ডান পাশে Edit-এ ক্লিক করুন। Email-এর পাশের বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে Save Changes-এ ক্লিক করুন। এখন Login Approvals-এর ডান পাশে Edit-এ ক্লিক করে Require me to enter a security code sent to my phone বক্সে টিকচিহ্ন দেয়ার সময় নতুন বার্তা এলে Set Up Now-এ ক্লিক করুন। এখন Phone number বক্সে আপনার মোবাইল নম্বর লিখে Continue-তে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে। কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Continue-তে ক্লিক করুন। তারপর Save Changes-এ ক্লিক করুন। এখন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লগআউট করে আবার ফেসবুকে লগইন করুন। দেখবেন, Name New Computer নামের একটি পেজ এসেছে। সেখানে Computer name বক্সে কোনো নাম লিখে Add to your list of recognized devices বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে Continue-তে ক্লিক করুন। এখন থেকে প্রতিবার আপনার কম্পিউটার ছাড়া অন্য কারও কম্পিউটার থেকে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগইন করতে চাইলে আপনার মোবাইলে একটি কোড নম্বর আসবে এবং সেই কোড নম্বরটি কোড বক্সে লিখে Continue-তে ক্লিক করলেই কেবল আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যাবে। কাজেই আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড সবাই জানলেও কেউ আপনার ফেসবুকে লগইন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার মোবাইলে আসা কোড নম্বরটি কোড বক্সে প্রবেশ করানো হবে। আপনার ই-মেইলে একটি মেইল যাবে, যেটাতে লেখা থাকবে কে, কখন, কী নাম দিয়ে, কোন আইপি ঠিকানা থেকে আপনার ফেসবুকে প্রবেশ করেছিল।

  ই-মেইল ঠিকানা বদলানো

 ফেসবুকে ই-মেইল ঠিকানা বদলের জন্য Account Settings-এ যেতে হবে। এখন Email-এর ডান পাশের Edit-এ ক্লিক করুন। এখন Add another email-এ ক্লিক করুন। New Email বক্সে নতুন ই-মেইল ঠিকানা লিখে Save Changes-এ ক্লিক করুন। তখন ফেসবুক পাসওয়ার্ড চাইলে পাসওয়ার্ড লিখে Save Changes-এ ক্লিক করুন। এখন আপনার নতুন ই-মেইল ঠিকানায় একটি মেইল যাবে। ওই মেইলে ক্লিক করলেই ফেসবুকে নতুন ই-মেইল ঠিকানাটা যোগ হবে। এখন আপনি দুটি ই-মেইল ঠিকানার যে কোনো একটি দিয়েই ফেসবুকে ঢুকতে পারবেন। এছাড়াও নানা রকম অপরিচিত লিঙ্ক, স্প্যামের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে।

  স্প্যাম এবং স্ক্যাম থেকে দূরে থাকুন

 প্রায়ই দেখবেন see who have visited your profile, see who have deleted you, see how many people visited your profile এছাড়াও আছে কিছু ভিডিও বা ছবি যাতে লেখা থাকে the girl died after seeing this pic ইত্যাদি। এগুলোতে ক্লিক করলে দেখবেন আপনার প্রফাইলে এসব স্প্যাম মেসেজ যুক্ত হয়ে যাচ্ছে, আপনার স্ট্যাটাস হিসেবে এসব চলে আসছে। সুতরাং এগুলো ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন এবং আপনার অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখুন।

 হুমকি-ধমকি চলবে না

 কাউকে ভুলেও, মজা করেও ফেসবুকে থ্রেট দেয়া যাবে না। আবার গালাগাল করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। নাহলে কেউ যদি রিপোর্ট করে আইডির আশা ছেড়ে দিতে হবে।

  শক্তিশালী পাসওয়ার্ড প্রয়োগ

 কোনো আইডির সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে মিশ্র ধরনের পাসওয়ার্ডের দিকে নজর দিতে হবে। মানুষ সব সময় যে কমন ভুলটা করে তা হলো নিজের ডিটেলস দিয়ে পাসওয়ার্ড দেয়, কিন্তু তা মোটেও নিরাপদ নয়। যেমন নিজের নাম, পরিবারের কারও নাম, জন্মতারিখ কিংবা মোবাইল নম্বর—এ ধরনের তথ্য। মনে রাখবেন পাসওয়ার্ড দিতে গেলে বড় হাতের এবং ছোট হাতের অক্ষর যে কোনো অঙ্ক, স্পেস ইত্যাদি ব্যবহার করবেন। আর স্পেশাল চিহ্নও রাখতে পারেন, যথা : *, %, # ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। পাসওয়ার্ডের মোট অক্ষর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কমপক্ষে ৬ সংখ্যার পাসওয়ার্ড দিতে হলেও চেষ্টা করুন যাতে মিনিমাম ১০-১৫ অঙ্কবিশিষ্ট হয়। আর পাসওয়ার্ডকে যাতে ভুলে না যান সেজন্য অন্য কোথাও সংরক্ষণ করুন।

  নিয়মিতভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন

 নিয়মিতভাবে নতুন পাসওয়ার্ড দিন, দেখবেন তাতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও ভয়ের কিছু থাকবে না। আর পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে Forgot Password নামক অপশনটি তো অপেক্ষা করছেই আপনার হারানো পাশ ফিরে পেতে।

  ব্যক্তিগত তথ্য সম্বন্ধে সাবধানতা

 প্রোফাইলে এমন কোনো তথ্য দেবেন না, যাতে দুষ্টচক্রের হাতে আপনার তথ্য পাচার হয়ে যায়, আর সেই তথ্য থেকেই আপনার পাসওয়ার্ড ব্রেক হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিরাপদ হলো সেইসব তথ্য কাউকে না দেয়া। এ ব্যাপারটা ব্যবহার করে আমি নিজে ৬টা আইডি চেষ্টা করে ১০০ ভাগ সফল হয়েছি। সো ডন্ট ডু দ্যাট, অবশ্য আমি তাদের দুর্বলতা চেক করার উদ্দেশ্যেই সেটা করেছি।

  অপরিচিত/ফেক অ্যাকাউন্টকে বন্ধু বানাবেন না

 একটা অপরিচিত ব্যক্তিকে কখনোই রিকোয়েস্ট বা এক্সেপ্ট করা উচিত নয়, কারণ এটা আপনার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ছবিহীন প্রোফাইল বা প্রয়োজনীয় ইনফো ছাড়া কাউকে অ্যাড করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

  লিঙ্ক ক্লিকে সতর্কতা

 ধরুন, আপনাকে কেউ একজন একটা লিঙ্ক দিল, কিন্তু সেই লিঙ্কে ক্লিক করার আগে বেশ কয়েকবার চিন্তা করা উচিত। যেমন, এমন হলো এটা পিশিং লিঙ্ক, বা কুকি স্টিলিং স্ক্রিপ্ট বা বিপজ্জনক কিছু, যা আপনার যে কোনো প্রাইভেসি ভাঙতে পারে।

 ই-মেইল সুরক্ষা ও এর সতর্ক ব্যবহার

 ইদানীং সবচেয়ে বেশি হ্যাক করা হয় ই-মেইলের মাধ্যমে, তাই ই-মেইল অ্যাড্রেসের কোনো লিঙ্কে যদি ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তাহলে ভুলেও সেখানে কিছু দেবেন না, আর ফেসবুকের হ্যাক কিন্তু ই-মেইল দিয়েই করা যায়। তাই আপনার ই-মেইল অ্যাড্রেসের পাসওয়ার্ডও অনেক স্ট্রং করবেন, না হলে তো বুঝতেই পারছেন!

  ফেসবুকে ফ্রেন্ড লিস্ট আলাদা রাখা

 ফেসবুকে প্রাইভেট গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে বন্ধুদের তালিকা আলাদা করা যায়। পরিবার, স্কুল, কলেজ বা অফিসের বন্ধুদের তালিকা আলাদা রাখলে সবারই নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। এটি সহজে করা যায় ফ্রেন্ড লিস্টে গিয়ে নতুন লিস্ট তৈরি করার মাধ্যমে।

  ফেসবুক সার্চ লিস্ট বন্ধ করা

 ফেসবুকের সার্চ অপশন ব্যবহার করে সহজেই মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এটি বন্ধ করা যায়, এমনকি ব্যবহারকারী যে নেটওয়ার্কের সদস্য, সেটি থেকেও তার উপস্থিতি লুকানো সম্ভব। এটি করা যাবে প্রাইভেসি সেটিংস থেকে সার্চ অপশনে গিয়ে। ফেসবুক সার্চ রেজাল্টে কারা সার্চ করতে পারবেন, এটি বাছাই করা যাবে এখান থেকে।

  গুগল সার্চ লিস্ট বন্ধ

 অনেক সময় দেখা যায়, গুগলে কারও নাম দিয়ে সার্চ করা হলে সেখানে সেই ব্যক্তির ফেসবুকের পেজও চলে আসে। এভাবে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিও নির্দিষ্ট কারও সব তথ্য পেতে পারে বা তাকে খুঁজে বের করতে পারে। এটি করার জন্য ‘সার্চ প্রাইভেসি সেটিং’ পেজে গিয়ে ‘পাবলিক সার্চ রেজাল্ট’ থেকে টিক চিহ্ন তুলে দিতে হবে।

  অনাকাঙ্ক্ষিত ট্যাগ বন্ধ

 যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এটি খুব পরিচিত ব্যাপার। ব্যবহারকারীর অজান্তে দেখা যায়, তার কোনো ব্যক্তিগত ছবি বা অন্য কারও ছবি যোগ হয়ে যায় (ট্যাগ করা) এবং ব্যবহারকারীর বন্ধুরা সেটি দেখতে পান। প্রাইভেসি সেটিংসে গিয়ে ‘ফটোস ট্যাগড অব ইউ’-এ গিয়ে ‘অনলি মি’ অপশন বাছাই করে দিলে কেউ আর কোনো ছবি যোগ করতে পারবে না।

  ফটো অ্যালবামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

 অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক ফটো অ্যালবাম, যা কিনা শুধু পরিবারের সঙ্গে দেখা যায়, তা অসাবধানতার কারণে সবার কাছে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফটো বা ফটো অ্যালবাম ফেসবুকে রাখার (আপলোড) সময় কে কে এটি দেখতে পাবে, তা ঠিক করে দেয়া যায়।

  নিউজ ফিড নিয়ন্ত্রণ করা

 ব্যবহারকারী তার নিউজ ফিড নিয়ন্ত্রণ না করলে তার প্রোফাইলের অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সবার নজরে পড়ে যায়, যা হয়তো তিনি কাউকে দেখাতে চাননি।

  অ্যাপ্লিকেশন স্টোরি নিয়ন্ত্রণ করা

 ফেসবুকের অন্যতম আর্কষণ এর বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম বা অ্যাপ্লিকেশন। এসবের হালনাগাদ (আপডেট) অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তে তার নিউজ হোমপেজে প্রকাশ হয়, যা অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে। এ থেকে মুক্তি পেতে ফেসবুকের অ্যাপ্লিকেশন সেটিংস অপশনে গিয়ে ইচ্ছামত পরিবর্তন করতে হবে।

  কনটাক্ট ইনফরমেশন প্রাইভেট বানানো

 ব্যবহারকারী তার সঙ্গে যোগাযোগ করার তথ্য, যেমন—ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। প্রাইভেসি সেটিংস থেকে কনটাক্ট ইনফরমেশন অপশনটি বাছাই করে এটি করা যাবে।

  ওয়ালপোস্ট নিয়ন্ত্রণ করা

 ওয়ালপোস্ট নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্রাইভেসি সেটিংস থেকে প্রোফাইল ইনফরমেশন অপশনটি বাছাই করতে হবে। সেখানে অ্যালাউ ফ্রেন্ডস টু পোস্ট অন মাই ওয়াল অপশনে টিক চিহ্ন দিতে হবে।

 অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ব্লক করা

 ফেসবুক ব্যবহারকারী যদি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করতে চান, তবে তাকে বুক লিস্টে যেতে হবে। সেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা ই-মেইল ঠিকানা ব্লক করা যাবে।

  পর্নোগ্রাফি

 এটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যান্ড হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ। আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা অন্য কোথাও আপনি যদি এ ধরনের কোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করেন তাহলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান্ড করে দিতে পারে কোনো অ্যাবিউজ রিপোর্ট অথবা নোটিশ ছাড়াই।

  ভাষার অপব্যবহার

 স্ট্যাটাস আপডেট অথবা ম্যাসেজ আদান-প্রদানের সময় আপনার ভাষার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। বাজে ভাষা ব্যবহার করলে আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা কেউ আপনার নামে রিপোর্ট করতে পারে এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  ভুয়া প্রোফাইল

 আপনি যদি আপনার নিজের নামের বদলে কোনো সেলিব্রেটি অথবা অন্য কারও নাম ব্যবহার করেন তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে খুব তাড়াতাড়ি। তবে এজন্য কাউকে অভিযোগ পাঠাতে হয়।

  অতিরিক্ত বন্ধু রিকোয়েস্ট

 প্রতিদিন ২০টির বেশি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না, যত কম হয় ততই ভালো। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার এটি আরেকটি অন্যতম কারণ।

  অনেক গ্রুপে জয়েন করা

 খুব বেশি গ্রুপে জয়েন না করাই ভালো। ফেসবুক এটি ভালো চোখে দেখে না। আর গ্রুপগুলো থেকে ম্যাসেজ এসে আপনার ইনবক্স ভর্তি হয়ে যেতে পারে প্রতিদিন।

  অতিরিক্ত মেসেজ

 আপনি যদি আপনার বন্ধুদের ওয়াল অথবা ইনবক্সে প্রতিদিন অনেক বেশি সংবাদ বা মেসেজ পোস্ট করেন, তাহলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর একই মেসেজ বারবার দিতে চাইলে সেখানে কিছুটা পরিবর্তন করে দিন। না হলে ফেসবুকে এটি স্প্যাম হিসেবে ধরা হবে হয়তো। মূলত ফেসবুক ব্যবহারের সময় এ বিষয়গুলোর দিকে একটু খেয়াল রাখলে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার তেমন কোনো আশঙ্কা থাকবে না। আর ফেসবুক ব্যবহারও হয়ে উঠবে মজার ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

  মনে রাখবেন

 আর সব সময় খেয়াল রাখবেন http://www.facebook.com-এর লিঙ্ক ছাড়া আর বাকি সব লিঙ্ক ফেইক, যেমন http://www.faceb00k.com। কি দেখতে একই মনে হচ্ছে তাই না, কিন্তু বিপদ এখানে। কাজেই কখনও এই ধরনের মেইলে ক্লিক করবেন না। কারণ এগুলো ফিশিং সাইট, যা ফেইক অর্থাত্ ভুয়া।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s