অনলাইনে নজরুলচর্চা

অনলাইনে নজরুলচর্চা

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তবে এ দেশের মানুষ শুধু নয়, ভারতের বাংলা ভাষাভাষী মানুষও নজরুলগীতি শুনতে পছন্দ করেন। তাঁর ভাব-আদর্শ উপলব্ধি করতে চান। আর এ দেশের ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় আট কোটি তরুণ-তরুণী নজরুলের কবিতায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে। তরুণদের আগ্রহ ও চেষ্টায় নজরুল ইসলামের গান, কবিতা, ছড়া, জীবনী অনেক কিছুই অনলাইনে এখন পাওয়া যায়। নজরুল তারণ্যের প্রতীক। এই সময়ের তারুণ্য আর প্রযুক্তি তো হাত ধরাধরি করে হাঁটে।তাই ইন্টারনেটে নজরুলচর্চা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে এবং বাংলা ব্লগে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা প্রায় নিয়মিত হয়ে থাকে, যা দিন দিন বাড়ছে।
জনপ্রিয় ফেসবুকে কাজী নজরুল ইসলাম নামের ফেসবুক পাতায় (www.facebook.com/pages/kazi-nazrul-islam/105612106139533) ৬৭ হাজারের বেশি লাইক আছে। যদিও সংখ্যাটি বাংলাদেশের মোট ২২ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তুলনায় অনেক কম। তবে এমনটা হওয়ার কারণ হয়তো ফেসবুকে কবিকে নিয়ে আরও কয়েকটি পাতা ও গ্রুপ আছে। এ ধরনের পাতা ও গ্রুপগুলোতে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে, সেটি পাতা-সম্পর্কিত বর্ণনা থেকে বোঝা যেতে পারে। যেমন: নজরুলসংগীত (www.facebook.com/nazrulsangeet) পাতায় বলা আছে, ‘কাজী নজরুল ইসলামের এক অনবদ্য সৃষ্টি হচ্ছে নজরুলসংগীত। এই সুন্দর সৃষ্টির জন্য আমরা এই মহান সংগীতস্রষ্টার কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।’
নজরুলসংগীত শোনার জন্য সাদামাটা একটি ওয়েবসাইট হলো: http://www.nazrul.org/nazrul_audio/songs.htm। ১৯৯৯ সালে তৈরি হওয়া এই ওয়েবসাইটে এমপিথ্রি ফরম্যাটে শ দেড়েক গান আছে। যদিও আমরা জানি যে বাকশক্তি হারানোর আগে ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত কবি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন। তবে সব কটি গান কোনো একটি ওয়েবসাইটে পাইনি। বাংলা মিউজিক ওয়েবসাইটে http://www.banglamusictrack.com/bangla-music-album.php?mcatid=2&bandid=8 অন্য অনেক ধরনের গানের সঙ্গে নজরুলসংগীতও শুনতে পারেন। ইউটিউবে নজরুলসংগীতের ভিডিওর পাশাপাশি অডিও শুনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ইউটিউবে গিয়ে নজরুলসংগীত কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম লিখে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। তারপর এক পাতা থেকে অন্য পাতায় গিয়ে গান ও কবিতা আবৃত্তি শোনা যাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রথম দিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘রবিহারা’ কবিতাটি কবির স্বকণ্ঠে আবৃত্তি শুনতে পাবেন ইউটিউবের এই লিংকে http://www.youtube.com/watch?v=jk04gc5IsZY
কাজী নজরুল ইসলামের সঞ্চিতা ও অগ্নিবীণাসহ ১৬টি বইয়ের স্ক্যান করা পিডিএফ কপি পাওয়া যাবে http://sahasudarshan.blogspot.com/2012/02/kazi-nazrul-islam-pdf-ebook-free_05.html ঠিকানায়।
বাংলা ব্লগসাইট ও ব্লগাররা এখন অনেক সক্রিয়। নজরুল ইসলামকে নিয়েও ব্লগগুলোতে ব্যাপকভাবে লেখালেখি হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি লেখালেখি হতে দেখা যায় সামহোয়্যারইন ব্লগে http://www.somewhereinblog.net )-এ। এ ছাড়া বিডিনিউজ ২৪ডটকম (blog.bdnews24.com) কিংবা চতুর্মাত্রিক (www.choturmatrik.com) ব্লগেও নজরুল নিয়ে লেখা রয়েছে। ব্লগের লেখাগুলোতে মূলত বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অবদান এবং তাঁর অনন্যপ্রতিভা ও অজানা কথাগুলো প্রকাশ এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। যেমন: আমরা অনেকেই জানি না, নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে একুশে পদক প্রদান ও জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এসব কোনো কিছুর বর্ণনাই জাতীয় ই-তথ্যকোষে আপনি পাবেন না। সরকারি ওয়েবসাইট ‘জাতীয় ই-তথ্যকোষ’- http://www.infokosh.bangladesh.gov.bd/detail.php?article_id=3113&content_type=0&doc_type=1-এর ঠিকানায় জাতীয় কবির কয়েকটি ক্যাপশনবিহীন ছবি অবহেলায় প্রকাশ করা হয়েছে। ই-তথ্যকোষ যখন তৈরি হয়েছিল, তখন একে বাংলাদেশিদের জন্য বাংলা উইকিপিডিয়া এবং গুগলের চেয়েও বেশি দরকারি সাইট হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য বাংলা উইকিপিডিয়া (http://tinyurl.com/2m4esg) অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ। এ ছাড়া গুগল সার্চ দিয়ে আরও অনেক ওয়েবসাইটে যেতে পারেন।
ব্লগগুলো থেকে আরও জানা যায় নজরুল সম্পর্কে। জানা যায়, বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম আরবি ও ফারসি শব্দের ব্যবহার করেন। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে কাজী নজরুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
এভাবেই কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য ও বৈচিত্র্যময় জীবন ইন্টারনেটের পাতায় পাতায় উঠে এসেছে। তবে একসঙ্গে সব তথ্য পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা এখনো হয়নি। আবার ইন্টারনেটের জগৎ সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় যে যেভাবে খুশি কাজী নজরুল ইসলামকে চিত্রিত করেছেন। সেগুলোতে যদি ভুল কিছু প্রকাশ হয়ে থাকে, সেটি দেখার কেউ নেই যেন। এ অবস্থায় কাজী নজরুল ইসলামের সব কাজকে একটি জায়গায় নিয়ে আসা দরকার। এ ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করতে হবে বাংলাদেশে নজরুল ইনস্টিটিউটের। কিন্তু কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেও নজরুল ইনস্টিটিউটের (http://nazrulinstitute.org.bd) ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারিনি।
মহান এই মানুষের কর্ম ও কীর্তি ইন্টারনেটে সংরক্ষণ করা এবং এর মাধ্যমে গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নজরুলবিষয়ক যেন অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট থাকে ইন্টারেনেটে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s