এইডস : প্রতিরোধেই মুক্তি

আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের কল্যাণে, উন্নত চিকিত্সার প্রভাবে এবং মানুষের সচেতনতার কারণে সংক্রামক রোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে, বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধি। তারই একটি হলো এইডস।
এইচআইভি ও এইডস কী?
এইডস এক আতঙ্কের নাম, এক মরণব্যাধি, এক সংক্রামক রোগ। সারা বিশ্বেই আজ এই রোগের ছড়াছড়ি, এমনকি মহামারি। তবে খুব কম মানুষই এই রোগের সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবগত আছেন। সত্যিকার অর্থে রোগটি ভীতিকর হলেও প্রতিরোধযোগ্য। হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েনসি ভাইরাস (এইচআইভি) এই রোগের জীবাণু।

এইচআইভি দেহে যেসব সমস্যা ঘটায়
এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক কোষ যেমন হেলপার টি সেল, মনোসাইট, ম্যাক্রফেজ, ডেনড্রাইটিক সেল, চর্মের ল্যাঙ্গার হেন্স সেল, মস্তিষ্কের গ্লায়াল সেল ইত্যাদিকে আক্রমণ করে এবং সেগুলোকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। ফলে মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তখন যে কোনো সংক্রামক জীবাণু সহজেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে আক্রমণ করতে পারে। এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার এই অবস্থাকে এইডস বলে। এই অবস্থায় শরীরে প্রতিরোধ করার মতো কোনো কার্যকর কোষ না থাকায় যে কোনো রোগ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরে নানা উপসর্গসহ এর বিস্তার ঘটে। এইডস রোগীর ক্ষেত্রে খুব সাধারণ সংক্রামক রোগও স্বাভাবিক চিকিত্সায় ভালো হয় না। ঘনঘন ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া ইত্যাদি হয়। এমনকি কিছু বিশেষ ধরনের ক্যান্সার শরীরকে আক্রমণ করে। এ ছাড়া শরীরের ওজন হঠাত্ করে খুব বেশি কমে যায় এবং শরীর খুব বেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হয়।

এইচআইভির কিছু ইতিহাস
১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম রোগটিকে শনাক্ত করা হয়। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নিউমোনিয়ার রোগী পাওয়া যায়, যার কারণ নিউমোসিস্টিস ক্যারিনিয়াই নামক একটি জীবাণু, যার বর্তমান নাম নিউমোসিস্টিস জিরোভেসি। পরে আফ্রিকায় প্রাদুর্ভাব ঘটে ক্যাপোসিস সারকোমা নামক একটি টিউমারের। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম একজন ফরাসি বিজ্ঞানী এইডসের জীবাণু আবিষ্কার করেন, নাম দেন এলএভি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা নাম দেন এইচটিএলভি। ১৯৮৬ সালে এর নামকরণ করা হয় এইচআইভি, যা এখনও প্রচলিত। বর্তমানে রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কারা ঝুঁকিপূর্ণ
অসচেতনতা, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, সুস্থ জীবনের অনুশীলন না করাটাই এই রোগের প্রধান ঝুঁকি। এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ হলো :
* এইচআইভি-আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে কনডম ছাড়া যৌনমিলনের মাধ্যমে।
* সমকামী, বহুগামী ব্যক্তি এবং বাণিজ্যিক ও ভাসমান যৌন কর্মীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত শরীরে গ্রহণের মাধ্যমে।
* যুবসমাজের মধ্যে নেশার আধিক্য এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ।
* আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি, অস্থিমজ্জা, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদি শরীরে সংস্থাপনের মাধ্যমে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা টুথব্রাশ ও ক্ষতসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি যেমন সুচ, সিরিঞ্জ, কাঁচি, ব্লেড, রেজার, ক্ষুর ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ব্যবহার করা ডাক্তারি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত না করে ব্যবহার করলে।
* এইচআইভি-আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় অথবা প্রসবের পর বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর হতে পারে।
* এইচআইভি-আক্রান্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় ভৌগোলিক অবস্থান, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা।
* শ্রমিক অভিবাসন ও মানবপাচার।
* সর্বোপরি এইচআইভি সম্পর্কে সচেতনতা ও তথ্যের অভাব।
মনে রাখতে হবে এইচআইভি রোগের কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করেও এই ভাইরাস মানুষের শরীরে বছরের পর বছর সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং এ সময় অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। কারও শরীরে এইচআইভি আছে কিনা তা বাইরে থেকে অনেক সময় বোঝা যায় না। শুধু রক্ত পরীক্ষা করে এ ভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাই দেখা যায়, অনেকে নিজের অজান্তেই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় না
মনে রাখা দরকার, কেউ এইচআইভিতে আক্রান্ত হলেই অন্য কারও মাঝে ছড়ায় না। নিচে কিছু উদাহরণ দেয়া হলো, যাতে এইচআইভি ছড়ানোর আশঙ্কা একেবারেই নেই। যেমন :
* আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন করলে বা একই ঘরে বসবাস করলে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা, চলাফেরা ও খেলাধুলা করলে, বা তাকে স্পর্শ করলে।
* একই পায়খানা এবং বাথরুম ব্যবহার করলে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা থালাবাসন, গ্লাস, বিছানা, বালিশ ইত্যাদি ব্যবহার করলে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, থুথু বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
* মশা, মাছি বা পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে।
* এইডস রোগীর সংস্পর্শে আসা কোনো স্বাস্থ্যকর্মী, যেমন—চিকিত্সক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী।
* হাসপাতালে কমন ওয়ার্ডে এইডস-আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকলে আশেপাশে ভর্তি করা অন্য রোগীদের কোনো অসুবিধা হবে না।

এইচআইভি প্রতিরোধে কী করণীয়
যেহেতু এইচআইভির বিরুদ্ধে প্রতিষেধক কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি, তাই প্রতিরোধ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে এ থেকে নিস্তার পাওয়া অত্যন্ত দুরূহ। কার্যকর কোনো ওষুধপত্র আবিষ্কৃত হয়নি। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে যেমন ভোগেন, এর পাশাপাশি পরিবার বা সমাজের অন্যদের জন্যও হুমকি হয়ে থাকেন।
* এইচআইভি প্রতিরোধের মূল উপাদান হলো শিক্ষা, সচেতনতা, ঝুঁকি অনুধাবনের মাত্রা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও ধারণা। মানুষের চিন্তায় ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।
* ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এইডস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে হবে। বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে হবে এবং একাধিক যৌনসঙ্গী পরিহার করতে হবে।
* নিরাপদ যৌনক্রিয়ার অভ্যাসের মাধ্যমে অসংক্রমিত লোক এইচআইভি সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারে। নিয়মিত ও সঠিকভাবে কনডম ছাড়া যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। অবাধ এবং অবৈধ যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত থাকাই হলো এইচআইভি সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকার সর্বতকৃষ্ট পন্থা।
* যারা শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ নেয়, তাদের বেলায় উত্কৃষ্ট উপায় হলো ইনজেকশনের মাধ্যমে ড্রাগ না নেয়া। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এইচআইভি সংক্রমিত রোগীর সঙ্গে আবার ব্যবহারযোগ্য সুচ, সিরিঞ্জ, ব্লেড বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
* এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরও মনে রাখা উচিত তার ব্যবহার করা সুই বা ইনজেকশন অন্যকে ব্যবহার করতে দেবেন না।
* একবার ব্যবহার করা যায়, এমন জীবাণুমুক্ত সুচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
* শরীরে রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণের প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, সে রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে এইচআইভি নেই।
* যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কারও যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থাকলে দ্রুত চিকিত্সা করাতে হবে।
* যৌনসঙ্গীর এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে, অথবা নিয়মিত ও সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করতে হবে।
* এইচআইভি আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি। তবে যেসব মায়েরা প্রয়োজনীয় থেরাপি গ্রহণ করেন তাদের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ সন্তান আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৮৫ ভাগ রোধ করা সম্ভব।
* জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে প্রতিরোধমূলক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

কেউ এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে…
নারী-পুরুষ যে কোনো মানুষের শরীরে এইচআইভি পাওয়া গেলে তাকে ভয় পাওয়া, ঘৃণা করা বা তার কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত নয়। তাকে সমবেদনা জানানো, যত্ন করা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। রোগটি ঘৃণার হলেও মানুষ তো আর কোনোভাবেই ঘৃণার পাত্র নয়। তাই এইচআইভি অন্য কারও বা নিজের শরীরে পাওয়া গেলে কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এইচআইভি পজিটিভ হলে তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটবে না, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একজন রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারবেন। রোগীর আশা ও আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন—
* যে কোনো ধরনের দুশ্চিন্তা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যেতে হবে।
* কোনোভাবেই ভেঙে পড়লে চলবে না, বরং মানসিকভাবে ভেঙে না গিয়ে সহজভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে।
* অবাধ ও অবৈধ যৌনমিলন পরিহার করতে হবে। যৌনমিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে হবে।
* ব্যবহার্য নিজের জিনিসপত্র, যেমন—সেভিং রেজার, ব্লেড, ক্ষুর অন্যকে ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না।
* দৈনন্দিন চাকরি, ব্যবসা, স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত বিশ্রাম ও প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে।
* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে চলতে হবে।
* সুষম, পরিমিত, পুষ্টিকর ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
* মহিলাদের ক্ষেত্রে বাচ্চা নিতে চাইলে বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলে সন্তান আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়নশীল বিশ্বে বুকের দুধ পরিহার করা সম্ভব নয়, কারণ এটিই প্রধান পুষ্টি। তবে যদি সম্ভব হয় এইচআইভি সংক্রমিত মায়ের বুকের দুধ পরিহার করতে হবে। কারণ এ থেকে ৫ থেকে ১০ ভাগ শিশু সংক্রমিত হতে পারে। সংক্রমিত মাকে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি দিয়ে চিকিত্সা করলে বুকের দুধের সংক্রমণ কমতে পারে। তাই এ ব্যাপারে চিকিত্সকের পরামর্শমত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। বর্তমানে আফ্রিকার মতো দেশে বুকের দুধ খাওয়াতে উত্সাহিত করা হচ্ছে।

উপসংহার
যেহেতু এখন পর্যন্ত এইডসের কোনো প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হয়নি এবং চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তাই এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো এইডস সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা, সে অনুযায়ী সচেতন হয়ে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ জীবনযাপন করা। ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন কঠোরভাবে পালন করা উচিত। মনে রাখা উচিত, এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সা শুধু এইডস হওয়ার সময়কে বিলম্বিত করে, পুরোপুরি নিরাময় করে না। জনগণের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এইচআইভি এবং এইডস শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যাই নয়, বরং এটি একটি উন্নয়ন সমস্যা যা আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিকগুলোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই সরকার এবং অন্যান্য সামাজিক শক্তি ও সংগঠনকে সমন্ব্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এইডস রোগীদের চিকিত্সা সুবিধা, প্রতিরোধ এবং এইডসে আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক নিগ্রহ ও বৈষম্যমূলক আচরণ পরিহার করার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এইডসসম্পৃক্ত মৃত্যু শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s