হাইপোগ্লাইসেমিয়া থেকে সাবধান

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা চিকিত্সার মাধ্যমে মুক্ত করা যায় না, বরং যা একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতর রেখে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হয়। ডায়াবেটিসের সমস্যা দুই ভাবে হয়—
প্রথমত হঠাত্ করে কিছু সমস্যা হয়, যার ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়, দ্বিতীয়ত ধীরে ধীরে শরীরে কিছু সমস্যা তৈরি হয়।
যদিও দুই ধরনের সমস্যাই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হয়, তবুও হঠাত্ যে অসুস্থতা তৈরি হয়, তার সমাধান দ্রুতই করতে হয়!
সাধারণত যে ধরনের অসুস্থতা হঠাত্ দেখা দেয়
— হাইপোগ্লাইসেমিয়া
— ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস
— হাইপার ওসমোলার নন কিটোটিক কোমা
হাইপোগ্লাইসেমিয়া কী? : হাইপোগ্লাইসেমিয়া ডায়াবেটিস রোগীদের কমপ্লিকেশানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হওয়া কমপ্লিকেশান। হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলতে বোঝায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ সাধারণ মাত্রার থেকে নিচে নেমে যাওয়া, সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ৩ সসড়ষ/খ-এর নিচে নেমে যাওয়াকে আমরা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলি।
উপসর্গসমূহ : মাথাব্যথা হওয়া, কনফিউশান, বুক ধড়ফড় করা, বেশি ক্ষুধা লাগা, বমি বমি ভাব হওয়া, ঘাম হওয়া, টেনশন হওয়া, অস্থিরতা, কাউকে চিনতে না পারা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি।
তবে সব ক্ষেত্রে সব উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। অবশ্য হাইপোগ্লাইসেমিয়াতে সাধারণত কিছু উপসর্গ দেখা যায়।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ
— কোনো বেলার খাবার না খাওয়া।
— প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের ওষুধ কিংবা ইনসুলিন গ্রহণ করা
— হঠাত্ অতিরিক্ত পরিশ্রম করা।
— কোনো সময় খুব ক্ষুধা পাওয়ার পরও খাবার না খাওয়া।
চিকিত্সা : হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চিকিত্সা খুব সহজ, তবে যেটা বেশি জরুরি এক্ষেত্রে তা হচ্ছে সময়। যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, ফলাফল ততই ভালো। এসময় উচিত—
— দ্রুত রোগীকে গ্লুকোজ খাইয়ে দেয়া।
— গ্লুকোজ পাওয়া না গেলে চিনি বা মিষ্টি ধরনের কিছু খাইয়ে দেয়া।
— যদি রোগীর জ্ঞান না থাকে বা কোনোভাবে খাওয়ানো সম্ভব না হয়, তবে ইনজেকশনের মাধ্যমে তার চিকিত্সা করতে হবে। ২৫% গ্লুকোজ ইনজেকশন দিয়ে দিতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।
সচেতনতাই যথেষ্ট : হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সমস্যা এড়িয়ে চলার জন্য সচেতনতাই যথেষ্ট। ডায়াবেটিসের রোগীরা সব সময় কাছে গ্লুকোজ রাখতে পারেন, না হলে মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যাদি যেমন চকলেটও রাখা যেতে পারে, যেন হঠাত্ প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া ডায়াবেটিসের চিকিত্সার জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। আর ডায়াবেটিসের সবচেয়ে কমন সমস্যা—হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চিকিত্সার জন্য সঠিক জ্ঞান আর সচেতনতাই যথেষ্ট।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s