Know about Arthritis

কোমর বা ঘাড়ের সমস্যার পাশাপাশি যে সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়, সেটি হলো হাঁটু ব্যথা। সাধারণত বয়স চল্লিশের ঊর্ধ্বে হলে অনেকের বেশ হাঁটু ব্যথা করে। বিশেষ করে সকালে টয়লেটে বসলে অথবা হাঁটু ভেঙে নামাজ পড়লে হাঁটু ব্যথা করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা, বিশেষ করে মাসিক বন্ধ হওয়ার পরপরই তাদের হাঁটু ব্যথা শুরু হয়। এ সময় তাদের হাড় ক্ষয়জনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। রোগী এসে বলে সকালে টয়লেটে বসতে পারি না। বসতে গেলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে, অনেকে বলে হাঁটু ফুলে কলাগাছের মতো হয়ে গিয়েছিল। এ সবের মূল কারণ হচ্ছে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। এটি এক ধরনের বাত রোগ।
আসলে আর্থ্রাইটিস হচ্ছে চলমান একটি রোগ। মাঝে মাঝেই এটি দেখা দেয়। আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিত্সা হচ্ছে ওষুধ। তবে একসময় হাঁটুর চিকিত্সায় ফিজিওথেরাপির গুরুত্বই বেশি হয়। রোগী যখন প্রথম প্রথম ব্যথা অনুভব করে তখন হাঁটার সময় পায়ের মধ্যে ভরের ভারসাম্য এদিক-ওদিক করে ফেলে। হয় সামনে ভর দেয়, অথবা পেছনে ভর দেয়। এককথায় যেভাবে ব্যথা কম লাগে, সেভাবেই পায়ে ভর দেয়। এতে হাঁটুর জয়েন্টের মধ্যে একটা পজিশনাল ফল্ট বা অল্প ডিসপ্লেসমেন্ট দেখা দেয়। ফলে রোগী হাঁটু ভাঁজ করে বসতে পারে না, সিঁড়িতে ওঠা-নামা করতে বা উঠতে-বসতে কষ্ট হয়। অনেক সময় হাঁটুতে কটকট শব্দ বা টানটান অনুভূত হয়। অনেক চিকিত্সক আছেন হাঁটুতে ব্যথা হলেই হাঁটু ভেঙে বসতে মানা করেন। এতে তার জয়েন্টের ভেতরের সব লিগামেন্ট বা ক্যাপ্সুল ও অন্যান্য অংশগুলো শক্ত হয়ে যাবে। ফলে যে বয়সে আর্থ্রাইটিস আসার কথা, তার চেয়ে আগেই চলে আসবে। তবে এটা বলা যায়, রোগী হাঁটু ভাঁজ করবে না সেই কয়েকদিন যে কয়েকদিন তার প্রচণ্ড ব্যথা থাকবে, বা না কমবে। কিন্তু এর জন্য দরকার সঠিক ম্যানুয়াল ও ম্যানুপুলেশন ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা, যা রোগীকে হাঁটু ভেঙে বসতে সাহায্য করবে। খেলাধুলায় আঘাতের ফলেও হাঁটু ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের ব্যথা আরও বিরক্তিকর। এই হাঁটু ব্যথা তরুণ বয়সী অনেককেও পঙ্গুত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

যেসব কারণে হাঁটু ব্যথা হয়

আর্থ্রাইটিসজনিত সমস্যা, আঘাতজনিত সমস্যা, স্পোর্টস ইনজুরি, যেমন—লিগামেন্ট বা টেনডন ইনজুরি, মিনিস্কাস ইনজুরি, প্যাটেলা বা জয়েন্ট ডিসপ্লেসমেন্ট ইত্যাদি কারণে এবং অনেক সময় কোমরের নার্ভ বা স্নায়ুর কারণে হাঁটু ব্যথা হয়। টিউমার কিংবা ক্যান্সারের কারণেও হাঁটু
ব্যাথা হয়।

ফিজিওথেরাপি চিকিত্সা

ম্যানুয়াল থেরাপি : এ থেরাপি রোগীকে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ভালো করে।
জয়েন্ট জোড়া সঠিক অবস্থানে আনা : একে বলা হয় মোবিলাইজেশন উইথ মুভমেন্ট চিকিত্সা।
ম্যানুপুলেশন থেরাপি : ডিপ ফ্রিকশন ও মায়োফেসিয়াল রিলিজ টেকনিক, যা হাঁটুর ওপর ও নিচের মাংসপেশি ও লিগামেন্টকে নরম করে, ফলে হাঁটুর ব্যথা কমে জয়েন্ট পাতলা অনুভূত হয়।
আইসোমেট্রিক বা স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ ও স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ : যা হাঁটুর শক্তি ও রেঞ্জ অব মুভমেন্ট বৃদ্ধি করে।
ড্রাই নিডিলিং : এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাঁটুর শক্ত মাংশপেশিকে নরম করা হয়, ফলে রোগী সহজে হাঁটু ভাঁজ করতে পারে।

হাঁটু ব্যথায় করণীয়

— হাঁটুর তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় তাহলে বরফ বা ঠাণ্ডা ছেঁক দেবেন, আর হাঁটুর তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে গরম ছেঁক দেবেন।
— হাঁটু ফোলা থাকলে হাঁটাহাঁটি কম করে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে উঁচু করে রাখুন, প্রয়োজনে নিকেপ ব্যবহার করুন। হঠাত্ ব্যথা হলে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন এবং চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s