ল্যাপটপের দেখভাল

বহনযোগ্য কম্পিউটার আজকাল জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছে। আর তাই আজকাল  ল্যাপটপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে  দাড়িয়েছে। চাকুরিজীবি কিংবা ছাত্র সবার কাছেই ল্যাপটপ এখন পরম আরাধ্য একটি বিষয়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় যারা খবরের কাগজ পারেন না কিংবা বন্ধু বান্ধবের খবর রাখতে পারেন না তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের যেকোন ওয়াইফাই জোনে নিজের ল্যাপটপ খুলে বসেন অনলাইনে খবরের কাগজ পড়ে বা ই-মেইল ফেসবুকিং করে সময়টা কাটিয়ে দিতে, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্লগিং করতে কিংবা কোন ফটোগ্রাফার সেই সুন্দরবনে বাঘের ছবি তুলে সাথে সাথে অনলাইনে পোস্ট করে দিচ্ছে, ল্যাপটপের ক্রমাগত প্রসারেই এতকিছু সম্ভব হচ্ছে।

আপনার ল্যাপটপকে সবসময় সমতল স্থানে রেখে কাজ করার চেষ্টা করবেন। বিছানায় অসমতল স্থানে শুয়ে বসে ল্যাপটপ চালানো আপনার জন্য আরামদায়ক হলেও অসমতল বিছানা আপনার ল্যাপটপের ভেতরকার গরম বাতাস বের হবার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিছানার ধুলা-বালি, বিছানার চাদরের আঁশ এগুলো বাতাস বের হবার পথে জমে যেতে পারে যা আপনার ল্যাপটপকে তাড়াতাড়ি নষ্ট করে দেবে।

ল্যাপটপের জন্য আলাদা মাউস ব্যবহার করুন। টাচ-প্যাড খুবই সংবেদী। তাই এটি ক্রমাগত অসতর্ক ব্যবহারে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া বাজারে যেসব ল্যাপটপ মাউস পাওয়া যায়, সেগুলো খুবই সাশ্রয়ী ও আকারে ছোট। এগুলোর তার ভাজ করে রাখা যায় বলে তারের প্যাচ লেগে যাবার ভয়ও নেই। আর যারা আগে পিসি ব্যবহার করেছেন তারা মাত্রই জানেন মাউস ব্যবহার কতটা আরামদায়ক

মাউসের মতই আলাদা কি-বোর্ড ব্যবহার করুন যদি আপনি পাঁড় ব্লগার কিংবা গেইমার হয়ে থাকেন। কেননা ল্যাপটপের কি-বোর্ড খুবই হালকা। এটি  বেশি চাপ সহ্য করতে পারবে এমন করে তৈরি করা হয় নি। তাই আপনার যদি কি-বোর্ডের কাজ বেশি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একটি এক্সটার্নাল ইউএসবি কিবোর্ড লাগিয়ে নেবেন। তা না হলে আপনার শখের ল্যাপটপের কিবোর্ডটির অকাল মৃত্যু দেখতে হতে পারে।

সবসময় আপনার ল্যাপটপের লিড বন্ধ করার সয়(ঢাকনা লাগানোর সময়) কি-বোর্ড ও মনিটরের মাঝে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত রাবার কিংবা রিসাইক্লেবল কাপড়ের কাভারটি রাখবেন। এতে করে কিবোর্ড থেকে মনিটরে কোন ধুলা-বালি ময়লা পরিবহন হতে পারবে না।

যা করবেন নাঃ

১. কখনোই ল্যাপটপের মনিটরে হাত দেবেন না। কোন ময়লা পড়লে আঙ্গুল দিয়ে মুছতে যাবেন না। আর নখ দিয়ে খুঁটলে তো কথাই নেই। জেনেই রাখুন যে ময়লা লেগেছে তা চলে যাবে, কিন্তু আপনার আঙ্গুলের স্পট ঠিক সেই জায়গায় সুন্দর থেকে যাবে। নখ লাগা অংশ এমনকি ড্যামেজও হতে পারে।

২. কখনো যেনতেন কাপড় দিয়ে মনিটর মুছতে যাবেন না। যেনতেন কাপড়(যেমন-টাওয়াল) দিয়ে মনিটর মুছলে মনিটরে স্ক্র্যাচ বা দাগ পড়ে যাবে যা আর কখনো তোলা যাবে না। মনিটর মুছতে কম্পিউটার বাজারে পাওয়া কিট ব্যবহার করুন। তা না পারা গেলে খুব নরম পিওর সুতি কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখবেন যে কাপড় যেন ভেজা না হয়। অর্থাৎ কাপড় শুকনো হতে হবে।

৩. ল্যাপির কিবোর্ডের কাছে কখনো পানি, চা, কফি, কোলা রাখবেন না। হঠাৎ হাত ছলকে কিবোর্ডে পড়ে গেলে সার্কিট নষ্ট হয়ে যাবার ভয় আছে। তাই ল্যাপির কাছে ‘নো খাওয়াদাওয়া’ ।

৪. ল্যাপটপের উপর হাঁচি-কাশি দিবেন না।

৫. arrow: ল্যাপিতে আজকের কাজ করা শেষ? নেট থেকে দরকারি বিষয়ে অনেক নোট নিয়েছেন? এখন পিসি বন্ধ করে দিয়ে লিড বন্ধ করলেন হঠাৎ দেখলেন মনিটর ঠিকমত লাগছে না। দিলের আরো জোরে চাপ। কড়াৎ করে কিছু ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ। লিড তুলে দেখলেন কিবোর্ডের উপরে আপনার কলম আর আপনি সেটা ওখানে রেখেই লিড লাগিয়ে দিতে গিয়ে মনিটর ভেঙ্গে বসেছেন। এমন অনাকাংখিত ঘটনা এড়াতে কিবোর্ডের উপর কিছু রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s