পড়া মনে রাখার কৌশল

সারাদিন পড়ার পরও পরীক্ষার সময় কিছুতেই উত্তরগুলো মনে করতে পারে না সুদীপ্ত। ব্যাপারটি নিয়ে বাবা-মা খুবই উদ্বিগ্ন। পড়াশোনায় তো সুদীপ্ত অমনোযোগী নয়। তবে সমস্যাটি কী? সঠিক উত্তরটি সঠিক সময়ে মনে করতে না পারা একটা সমস্যাই বটে। এটা স্মরণশক্তির দুর্বলতার জন্য হতে পারে। অবশ্য শিক্ষার্থীর পড়ায় অমনোযোগ, অন্য কাজে মনোযোগ বেশি থাকলেও এ সমস্যা হয়। তবে কিছু কৌশল মেনে চললে এ সমস্যা কাটানো যায় সহজেই। শিক্ষার্থীদের এই মনে না রাখার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এএইচএম ফিরোজ। তার মতে, মানুষের মস্তিষ্কের দুটি দিক রয়েছে। একটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম, অপরটি পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম। সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের আবার অনেক ভাগ রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে নানা রকম কাজ। তার একটি হলো মেমোরি বা স্মৃতিশক্তি। পৃথিবীতে বেশি আইকিউ নিয়ে কেউ জন্মগ্রহণ করে না। তাদের ব্যবহারিক আচরণের ওপর নির্ভর করে বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ। যত চর্চা করা যাবে আইকিউ ততই বাড়বে। সাধারণ আইকিউ ৯০ থেকে ১১০। তবে কারও কারও আইকিউ ১১০-এর ওপরে হতে পারে। পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির আইকিউ ১১০-এর ওপরে। এই আইকিউ বৃদ্ধির জন্য চর্চার কোনো বিকল্প নেই। চর্চার মাধ্যমেই একজন ছাত্র সাধারণ থেকে মেধাবী হতে পারে। মনে রাখতে না পারার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কিছু কৌশল অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন_
১. যে কোনো কাজে সফল হওয়ার প্রধান এবং প্রথম শর্ত হলো আত্মবিশ্বাস। নিজের মনকে বোঝাতে হবে যে, পড়াশোনা অনেক সহজ বিষয়। আমি পারব, আমাকে পারতেই হবে। তাহলে অনেক কঠিন পড়াও সহজ মনে হবে।
২. একবার পড়েই কোনো বিষয় মনে রাখা সহজ নয়। তাই যে কোনো বিষয় মুখস্থ করার আগে বিষয়টি কয়েকবার পড়ে বুঝে নিতে হবে। তাহলে সেটা মনে রাখা অনেক সহজ হবে। যে কোনো বিষয়ে মনে ভয় ঢুকে গেলে সেটা মনে রাখা কঠিন। তাই ভয় মনে না করে প্রথম থেকে বুঝে পড়ার চেষ্টা করলে মনে রাখা কঠিন হবে না। পড়ার পাশাপাশি লেখার অভ্যাস খুবই জরুরি। পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত সময়কে বেছে নিতে হবে। লেখাপড়ার জন্য কোন সময়টা বেছে নিতে হবে_ তা একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ রাত জেগে পড়াশোনা করে, কেউ সকালটাকেই মুখ্য সময় হিসেবে বেছে নেয়। তবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘুমের পর ভোরবেলাই পড়াশোনার উপযুক্ত সময় হিসেবে মনে করা হয়।
৩. পড়া মনে রাখা একটি কৌশল। কোনো একটি পড়া পড়ে নেওয়ার পর সাতটি ভাগে ভাগ করতে হয় এবং প্রতিটি ভাগের জন্য এক লাইন করে সারমর্ম লিখতে হয়। ফলে পড়ার বিষয়টি সাতটি লাইনে সীমাবদ্ধ থাকে। এর প্রতিটি লাইন একটি পাতায় লিখে অধ্যায় অনুযায়ী একটি গাছ তৈরি করে গাছের নিচ থেকে ধারাবাহিকভাবে পাতার মতো করে সাজাতে হবে, যাতে এক দৃষ্টিতেই পড়ার বিষয়টা সম্পূর্ণ মনে পড়ে যায়। এই পাতাগুলোয় চোখ বোলালে লেখা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। বাংলা, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই কৌশলটি অধিক কার্যকর।
৪. ইতিহাস মনে রাখা নিয়ে অনেকেরই সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে মেনে চলতে পারেন একটি কৌশল। বইয়ের সব অধ্যায় নিয়ে মোটামুটি ৪০০ বছরের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা বানাতে হবে। সেখান থেকে কে, কখন, কেন উল্লেখযোগ্য ছিলেন সেটা সাল অনুযায়ী খাতায় লিখতে হবে। প্রতিদিন একবার করে খাতায় চোখ বোলালে খুব সহজেই পুরো বই সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হবে। ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। ইতিহাসের সবচেয়ে মনে রাখার কষ্টকর বিষয়টি হলো বিভিন্ন সাল বা বছর। এভাবে চর্চার মাধ্যমে এই সাল মনে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।
৫. পড়া মনে রাখার এটি একটি কার্যকর পন্থা। উচ্চৈঃস্বরে পড়লে শব্দগুলো কানে প্রতিফলিত হয়ে তা মস্তিষ্ক সহজেই ধারণ করে। শব্দহীনভাবে পড়া হলে মনের মধ্যে অন্য চিন্তা ঢুকে পড়ে, পড়ার আগ্রহটা কমে যায়। ফলে পড়া মুখস্থ হয় না।
৬. সাধারণত মেধাবী ছাত্রদের দেখা যায় কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে তারা বিভিন্ন বই থেকে উপাদান সংগ্রহ করে নিজের মতো করে একটা নোট তৈরি করে। এটা খুবই ভালো পন্থা। এতে ওই বিষয় সম্পর্কে বারবার পড়ার কারণে তাদের নোট তৈরির সময়েই বিষয়টা সম্পর্কে অনেকটা ধারণা অর্জন করা সম্ভব হয়। পরে সেই বিষয়টা মনে রাখা কোনো কষ্টই হয় না।
৭. ইংরেজি পড়া মুখস্থ করার আগে শব্দের অর্থটা জেনে নিতে হবে। অর্থ না জানলে পুরো পড়াটাই বিফলে যাবে। আর সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠ্যবইয়ের যে কোনো জায়গা থেকেই প্রশ্ন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে অর্থ জানা থাকলে অবশ্যই উত্তর দেওয়া যায়।
৮. মুখস্থ বিদ্যা চিন্তাশক্তিকে অকেজো করে দেয়। না বুঝে মুখস্থ করার মাঝে পড়ার কোনো আনন্দ থাকে না। স্মৃতিতেও ধরে রাখা যায় না। তবে কিছু কিছু বিষয় অবশ্যই মুখস্থ করতে হবে। যেমন_ সাল, তারিখ, সূত্র। এসব মুখস্থ না করে উপায় নেই।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s