কৃষিনির্ভর এনায়েতপুর গ্রামের চাষিরা মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষ করেন। তাদের উঁচু জমিগুলো অনেক সময়ই খালি পড়ে থাকে। ফলে চাষিরা ঐ সময়ে বেকার বসে থাকেন। জমিতে ফসল না থাকা ও বেকারত্বের কারণে দিশেহারা কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ চাইলে কৃষি কর্মকর্তা চাষিদের মৌসুম নির্ভরতামুক্ত বিভিন্ন ফসলের জাত চাষাবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। ধানসহ বিভিন্ন শাকসবজির মৌসুম নির্ভরতামুক্ত ফসল চাষ করে এনায়েতপুরের চাষিরা বর্তমানে স্বাবলম্বী।

(ক) জিএম ফসল কী?

(খ) সুপার হাইব্রিড ধানের চাষ চাষিদের বীজের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করেÑ ব্যাখ্যা করো।

(গ) ফসল চাষে সফলতা পেতে এনায়েতপুরের চাষিরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এনায়েতপুরের চাষিরা কিভাবে সাবলম্বী হয়েছিলেনÑ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : (ক)  জিএম ফসল বা জেনেটিক্যালি মডিফাইড ক্রপ হলো উৎপাদিত ফসলের জিনগত বিন্যাস বদলানো, ফসলের দিবা দৈর্ঘ্য সংবেদনশীলতার জন্য দায়ী জিন ছাঁটাই করা অথবা এমন পরিবর্তন আনা যাতে তা প্রশমিত থাকে।

(খ) আমাদের দেশে ঐতিহ্যগতভাবেই মোট ব্যবহৃত ধানের অন্তত ৮৫% বীজ চাষিরা নিজেরাই সঞ্চয় ও ব্যবহার করেন। BRRI  উৎপাদিত উচ্চফলনশীল ধানগুলোর বীজও কৃষকেরা নিজেরাই উৎপাদন করে থাকেন। আর সুপার হাইব্রিড ধানের বড় অসুবিধা হলোÑ এসব অত্যাধুনিক ধানের বীজ রাখা যায় না। এক প্রজন্মেই বীজের গুণাগুণ শেষ। ফলে সুপার হাইব্রিড ধানচাষি কৃষকদের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করে।

(গ)  মৌসুম নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের কৃষির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

এনায়েতপুর গ্রামের চাষিরা মৌসুমনির্ভর ফসল চাষ করেন। ফলে তাদের উঁচু জমিগুলো প্রায়ই পড়ে থাকে। ফসল চাষে সাফল্য পেতে এনায়েতপুরের চাষিরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা নিচে আলোচনা করা হলোÑ

(i) এনায়েতপুরের চাষিরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে সারা বছর চাষ করা যায় এমন ফসল উৎপাদন করবেন। যেমন : শীতকালীন ফসল টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি। ধানের ক্ষেত্রে বিআর-২৮।

(i i) আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি, সবুজ সার, কম্পোস্ট সার, সাথী ফসল, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করবেন।

(i i i) উঁচু জমিতে খরা মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা করবেন ও সেচনির্ভর ফসলের চাষ করবেন। বর্ষা মৌসুমে বর্ষানির্ভর (উপযোগী) ফসলের ও সবজির চাষ করে লাভবান হবেন।

(ঘ) বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তবে বাংলাদেশের কৃষি এখনও তেমন প্রযুক্তিনির্ভর নয়।

বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামের মতো এনায়েতপুর গ্রামের চাষিরা মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষ করেন। ফলে মৌসুম ছাড়া অন্য সময়গুলোতে চাষিরা বেকার বসে থাকেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তারা মৌসুম নির্ভরতামুক্ত ফসলের আবাদ করেন। যেমনÑ শীত মৌসুম নির্ভরমুক্ত ফসল টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ধানের ক্ষেত্রে সারা বছর চাষ করা যায় বিআর-২৮।

অন্যদিকে গিন হাউজ সবজি চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসময়ে ফসল ফলিয়ে এনায়েতপুর গ্রামের চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হয়েছিলেন। এলাকায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষ বেকার ছিল না।

ওপরের আলোচনার মাধ্যমে দেখা গেল যে, মৌসুম নির্ভরতামুক্ত ফসলের চাষ করে কৃষকেরা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s