ইসলাম শিক্ষা (সৃজনশীল) ১০ম শ্রেণি

১.জনাব আকতার সাহেব পুলিশের অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকুরীতে ঢুকে তিনি দেখেন, অবৈধ আয়ের আগমন এতো বেশি যে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেও  পরিপার্শবকে  তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। তিনি অস্থির  হয়ে  শেষ পর্যমত্ম চাকুরী ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধামত্ম নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি শিক্ষাক্যাডারে  যোগদান করেন।

(ক) হালাল উপার্জন বলতে কী বুঝ ?
(খ) হালাল উপার্জনের মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
(গ) আমাদের  সমাজে হালাল উপার্জনের দিকগুলো চিহ্নিত কর।
(ঘ) ইসলামের আলোকে হারাম উপার্জনের ক্ষতিকর দিকগুলো বিশেস্নষণ কর ।

 ২.আরিফ সাহেব অফিসে একজন মাটির মানুষ হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত। করিৎকর্মা এই ব্যক্তি সবসময় সঠিক সময়ে সকল কাজ সম্পাদন করেন।  ফলে  যেখানে তিনি ট্রান্সফার হোননা কেন সবখানেই সুনাম এবং পুরস্কার অর্জন করেন। কিছু খারাপ সহকর্মী তার এই সুনামকে সহ্য করতে পারেনা। তার বিরূদ্ধে নানা  রকম মন্দ কথা বলে। একথা তার কানে উঠলে তিনি বলেন, আলস্নাহ সবাইকে হিদায়াত করম্নন। রাসূল (সঃ) বলেছেন, তোমরা ঈর্ষা করা থেকে বিরত থাক। কারণ এটা সকল সৎকর্মকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে ।

(ক) গীবত কাকে বলে?
(খ) কী ধরনের উক্তি গীবত বলে গণ্য হতে পারে ব্যাখ্যা কর ।
(গ) হিংসার অপকারিতা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা কি কি কাজ করতে পারি তার একটা দিক নির্দেশনা উপস্থাপন কর ।
(ঘ) উদ্দীপকে উলেস্নখিত হাদীসটির মর্মার্থ ব্যাখ্যা কর ।

 ৩.হযরত মুহাম্মদ (সঃ) যখন ইসলাম প্রচার করা শুরম্ন করেন তখন সমগ্র মক্কাবাসী তাঁর বিরোধিতা করা শুরম্ন করেন। এই সময় হযরত খাদিজা (রাঃ)  হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পাশে ছায়ার মতো অবস্থান করতেন। হেরা গুহার ধ্যান থেকে যখনই রাত্রিতে ফিরেছেন দরজায় কখনও তাকে দু’বার ঠোকা দিতে হয়নি। তাঁর সমসত্ম সম্পদ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পায়ের তলায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। একজন গবেষক মমত্মব্য করেছেন,‘‘নবুয়্যতের প্রারম্ভে হযরত খাদিজা (রাঃ) হযরত মুহাম্মদ (সঃ)  এর সাথী না হলে হয়তো ইসলামের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।

(ক) হযরত খাদিজা (রাঃ) কী কারণে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন?
(খ) হযরত খাদিজা (রাঃ) কী কারণে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)কে বিবাহ করার প্রধান কারণ ব্যাখ্যা কর।
(গ) ’হযরত খাদিজা (রাঃ) এর জীবনাদর্শ অনুসরণ একজন আদর্শ নারী হওয়ার সর্বোত্তম পথ’ -তুমি কি মনে কর?
(ঘ) ‘‘নবুয়্যতের প্রারম্ভে হযরত খাদিজা (রাঃ) হযরত মুহাম্মদ (সঃ)  এর সাথী না হলে হয়তো ইসলামের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। ’’ বিশেস্নষণ কর।

 ৪.ইসলাম সাহেব একটি নতুন মাছ ধরার বোট তৈরি করেন। সমুদ্র যাত্রার পূর্বে তিনি মনস্থ করেন, বাবার মাজারে  গিয়ে একটি ছাগল দান করতে হবে এবং মাজারের পুকুর থেকে পানি এনে নৌকায় ছিটাতে হবে, যাতে বিপদ আপদ থেকে নৌকাটি সুরক্ষিত থাকে। বাবার কাছ থেকে ফেরার পথে গাড়িতে পাশে বসা একজন অধ্যাপকের কাছে কথা প্রসঙ্গে বাবার দরবারে যাওয়ার কথাটি তুলেন। অধ্যাপক সাহেব তাকে বলেন, সবকিছুর মালিক আলস্নাহ; চাইলে আলস্নাহর কাছে চাওয়া দরকার । কারণ আলস্নাহতা’লা বলেছেন, নিশ্চয় আলস্নাহ তা’লা যারা শিরক করে তাদের  গুনাহ ক্ষমা করবেননা।

(ক) কাকে আমরা কাফির বলব?
(খ) কুফরী আর মুনাফেকী এক কিনা ব্যাখ্যা দাও।
(গ) ইসলাম সাহেব মাজারে গিয়েও কিভাবে শিরক থেকে নিজেকে  রক্ষা করতে পারতেন-উপায়গুলো উপস্থাপন কর।
(ঘ) নিশ্চয় আলস্নাহ তা’লা যারা শিরক করে তাদের  গুনাহ ক্ষমা করবেননা। আয়াতটি বিশেস্নষণ কর।

৫.কলেজ জীবন থেকে খোকন এবং দুলাল ভাল বন্ধু থাকলেও কিছুদিন পর দুলাল হারিয়ে যায়। বছর চারেক পর রাসত্মায় গাড়িতে দেখা দুলালকে চিনতেই পারেনি। এখন অনেক বড় লোক সে। জানতে চাইলে, সে জানায়, দোসত্ম ব্যবসা। তবে রিস্কি। হেরোইন এবং ইয়াবার ব্যবসা। দোকান এবং হোটেল এগুলো লোক দেখানো। এগুলোর মাধ্যমে ব্যবসা চালানো হয় ।  দোসত্ম, তুইতো মানবজাতিকে ধ্বংস করার মিশনে নেমেছিস। আবার সেই ধ্বংসের টাকা নিয়ে বড়লোক হচ্ছিস। এজন্য তোকে স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ হাদীসে এসেছে-‘‘দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র’’

(ক) আখিরাতের জীবন কখন থেকে শুরম্ন হয়?
(খ) হাশরের ময়দানে মীযান  নির্ধারণ করার ব্যাখ্যা কর।
(গ) দুলালকে পরকালে জান্নাত লাভ করতে বর্তমানে কি কি কাজ করতে হবে ? তার একটি তালিকা উপস্থাপন কর।
(ঘ) দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র-হাদীসটি বিশেস্নষণ কর।

 ৬.মহান আলস্নাহ রাববুল আলমীন মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে চলার পথও বাতলে দিয়েছেন।  পথ ও পাথেয় কীভাবে নির্ণয় করতে হবে সে ব্যাপারে ও দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যে সকল বস্ত্ত মানুষের শরীরের এবং মনের জন্য উপকারী সেগুলো তিনি হালাল করেছেন। ঘৃণ্য এবং মানবের জন্য অপকারী জিনিসগুলো তিনি মানুষের জন্য তিনি হারাম করেছেন। পবিত্র কোরআন পাকে তিনি ঘোষণা করেছেন-হে মানবমন্ডলী, তোমরা পৃথিবীতে হালাল ও পবিত্র বস্ত্ত আহার কর।

(ক) হালাল দ্রব্যগুলো কিসের দ্বারা প্রমাণিত?
(খ) মৃত পশু অবৈধ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর ।
(গ) হারাম এবং হালাল বস্ত্ত নির্ণয়ের জন্য আমরা কোন কোনমাপকাঠি ব্যবহার করব?
(ঘ) হে মানবমন্ডলী, তোমরা পৃথিবীতে হালাল ও পবিত্র বস্ত্ত আহার কর—-বিশেস্নষণ কর।

 ৭.পবিত্র পাক কালাম মানবজাতির জন্য  দিশারী। কোরানের মাধ্যমে সহান আলস্নাহ পাক দ্বীনকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। এটি পবিত্র কোরআন শরীফ সমগ্র মানবজাতির রক্ষাকবচ। সকল প্রকার অসুখের মহৌষদ এই কোরআন।  চির অশামিত্মর বহ্নিশিখায় এক প্রশামত্ম ঝর্ণাধারা । স্যার উইলিয়াম মূর  বলেছেন,’’ পৃথিবীতে সম্ভবত এমন আর একটি গ্রন্থও নেই যা বারশত বছর ধরে  এমন বিশুদ্ধ ও অবিকৃত রূপ নিয়ে বিরাজমান।

(ক) হাদীস কাকে বলে?
(খ) হাদীসের প্রয়োজনীয়তা  ব্যখ্যা কর।
(গ) বর্তমান বৈশ্বিক সমস্যা কোরআন দ্বারা সমাধানযোগ্য কিনা ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) স্যার উইলিয়াম মূরের উক্তিটি বিশেস্নষণ কর।

 ৮.নাদিরা পড়ালেখা শেষ করে  সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেছে। টাকা যা রোজগার করে  তা শুধু নিজের জন্যই খরচ করে । ভাই-বোন মা-বাবার প্রতি কোন প্রকার নজর দেয়না। মা-বাবা তাকে কিছু কিছু টাকা পাঠাতে বললে, সে বলে, যে টাকা কামাই করি , তা দিয়ে নিজের চলেনা, তোমাদের দিই কিভাবে? মা একবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, সে দেখতে পর্যমত্ম যায়নি। টাকা তো দিতে পারবনা । গিয়ে কী লাভ? তার  একজন কলিগ তার এরূপ আচরণ দেখে বলে, তোমার মা-বাবাই তোমার দোযখ বেহেসত্ম। হাদীসে এসছে, পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আলস্নাহর সন্তুষ্টি।

(ক) প্রতিবেশি কারা?
(খ) প্রতিবেশিদের  সঙ্গে কী রকম আচরণ করা উচিৎ ব্যাখ্যা কর।
(গ) পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের কী কী কাজ করতে হবে তার একটা তালিকা উপস্থাপন কর।
(ঘ) পিতামাতার সন্তুষ্টিতে আলস্নাহর সন্তুষ্টি—-বাক্যটি বিশেস্নষণ কর।

 ৯.জনাব আলম সাহেব কোটিপতি। প্রতি বছর হিসেব করে  যতটুকু যাকাত আসে সঠিকভাবে আদায় করেন।  তিনি আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা দরিদ্র আছে তাদের  কাউকে দোকান ধরিয়ে দেন, কাউকে হালের বলদ কিনে দেন। এভাবে তিনি তার যাকাতের পুরো টাকা আদায় করেন। একবার তার স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, অনর্থক এতো টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় । তিনি স্মরণ করিয়ে দেন রাসূল (সাঃ) এর সেই বাণী, যাকাত না দেয়া মুশরিকের কাজ।

(ক) যাকাত দানের মুখ্য উদ্দেশ্য কী?
(খ) রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায় করলে কি সুবিধা পাওয়া যাবে ব্যাখ্যা কর।
(গ) দারিদ্র্য দূর করতে আলম সাহেবের মতো আমরা আরো কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারি তার একটা রূপরেখা প্রদর্শন কর।
(ঘ) যাকাত না দেয়া মুশরিকের কাজ—–বিশেস্নষণ কর।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s