Person

আমেরিকার ম্যাগাজিন  Hollywoodbuzz এ  2013 থেকে 2014 পর্যন্ত  বিশ্বের 30 জন সর্বোত্তম সুন্দরীর তালিকা উপস্থাপন করেছে।

ভারতের দুই তারকা ঐশ্বরিয়া এবং দিপীকা পাড়ুকুন যথাক্রমের 4র্থ এবং 29 নম্বর স্থানে আছেন। সবার উপরে আছেন ইটালিয়ান অভিনেত্রী মনিকা বেলুচ্চি। দ্বিতীয় স্থানে আছেন  আমেরিকান মডেল এবং অভিনেত্রী কেইট উপটন।  অনলাইন ভিত্তিক ভোট  গ্রহণ শুরু হয় ডিসেম্বরে। প্রায় চার মিলিয়ন লোক ভোটে অংশগ্রহণ করে। ভোট দেয়ার ব্যাপারে তারা যে গুণগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে তা হলো তাদের  বুদ্ধিমত্তা, সফলতা আকর্ষনীয় ইত্যাদি। সেই 30 এর পুর্ণ তালিকা নিম্নে উপস্থাপন করা হলঃ

1. Monica Bellucci  

Monica Bellucci

Monica Bellucci

2. Kate Upton

Kate

Kate

3. Angelina Jolie

 Angelina Jolie

Angelina Jolie

4. Aishwarya Rai Bachchan

Aishwarya

Aishwarya

5. Irina Shayk

Irina

Irina

6. Meryem Uzerli

Meryem

Meryem

7. Charlize Theron

Charlize

Charlize

8. Amber Heard

Amber Heard

Amber Heard

9. Rihanna

 Rihanna

Rihanna

10. Scarlet Johansson

Scarlet Johansson

Scarlet Johansson

11. Megan Fox

Megan Fox

Megan Fox

12. Adriana Lima

Adriana Lima

Adriana Lima

13. Halle Berry

Halle Berry

Halle Berry

14. Eva Mendes

Eva Mendes

Eva Mendes

15. Miranda Kerr

Miranda Kerr

Miranda Kerr

16. Katy Perry

 Katy Perry

Katy Perry

17. Amanda Seyfried

Amanda Seyfried

Amanda Seyfried

18. Olivia Wilde

Olivia Wilde

Olivia Wilde

19. Mila Kunis

Mila Kunis

Mila Kunis

20. Kristen Stewart

Kristen Stewart

Kristen Stewart

21. Kim Kardashian

Kim Kardashian

Kim Kardashian

22. Jennifer Lawrence

Jennifer Lawrence

Jennifer Lawrence

23. Taylor Swift

Taylor Swift

Taylor Swift

24. Haifa Wehbe

Haifa Wehbe

Haifa Wehbe

25. Beyonce

Beyonce

Beyonce

26. Candice Swanepoel

Candice Swanepoel

Candice Swanepoel

27. Jessica Alba

Jessica Alba

Jessica Alba

28. Anne Hathaway

Anne Hathaway

Anne Hathaway

29. Deepika Padukone

Deepika Padukone

Deepika Padukone

30. Fan Bingbing

Fan Bingbing

Fan Bingbing

বিলগেটস    কম্পিউটার জগতের জীবন্ত  কিংবদন্তী

কম্পিউটার জগতের এক অতি পরিচিত নাম। যারা কম্পিউটার সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারাও এই নামটির সাথে পরিচিত হয়ে থাকবেন। কারণ এটি একটি Operating System যা বিশ্বের অধিকাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারী ব্যবহার করছেন। আর সবাই এটাও জানে এই Operating System টির স্বত্বাধিকারী কোম্পানির নাম Microsoft. বিশ্বের সবচাইতে বড় কম্পিউটার ভিত্তিক কোম্পানি হিসেবে Microsoft এর নামডাক সারা বিশ্বে, নিঃসন্দেহে যিনি এই কোম্পানির স্বত্বাধিকারী তিনিও বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে থাকবেন! ঠিক তাই! Microsoft কোম্পানির স্বত্বাধিকারী সফল মানুষের এক অনন্য উদাহরণ, Bill Gates. আমার আজকের এই প্রতিবেদন টিউনটি কম্পিউটার জগতের এই জীবন্ত কিংবদন্তীকে নিয়েই। সবাই Microsoft এর ব্যাপারে কম বেশী জানি। কিন্তু এই বিশাল প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে কে ই বা কতটুকু জানি?

তাই আমার আজকের এই টিউনটি সাজিয়েছি এই মহান ব্যক্তির জীবন কাহিনী, পেশা, ব্যক্তিগত জীবন এবং অন্যান্য তথ্যাদি দিয়ে।

টিউনের শুরুতে খুব সংক্ষেপে আমরা বিল গেটস এর কিছু তথ্য দেখে নেব :

১) নাম : উইলিয়াম হেনরি গেটস (তৃতীয়)

২) জন্ম : ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৫

৩) জন্মস্থান : সিয়াটল, ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

৪) পিতা-মাতা : পিতা উইলিয়াম হেনরি গেটস Sr. মাতা মেরী ম্যাক্সওয়েল গেটস

৫) জাতীয়তা : আমেরিকান

৬) পড়াশুনা : হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

৭) বর্তমান আবাসস্থল : মেডিনা, ওয়াশিংটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

৮) পেশা : Co-founder & Chairman of “Microsoft”, Co-chairman of the “Bill & Melinda Gates Foundation”, CEO of “Cascade Investment” & Chairman of “Corbis” 

৯) পরিবার : স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস এবং তিন সন্তানকে নিয়ে তার পরিবার

 শৈশব কৈশোর জীবনঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের একটি এলাকা সিয়াটল। এই শহরেই ১৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর পিতা উইলিয়াম হেনরি গেটস Sr. ও মাতা মেরী ম্যাক্সওয়েল গেটস এর কোলে জন্ম নিল এক শিশু। পিতা তাদের বংশানুক্রম অনুসারে ছেলের নামও রাখলেন উইলিয়াম হেনরি গেটস। তার পিতা মাতা ছিলেন ইংরেজ, জার্মান ও স্কট-আইরিশ মিশ্র রক্তের মানুষ। বিল গেটস এর বাবা ছিলেন সেই সময়কার প্রখ্যাত ল-ইয়ার, আর মা চাকরি করতেন United Way নামের একটি কোম্পানির First Interstate BancSystem এর Board of director হিসেবে। বিল গেটস এর নানা ছিলেন তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। বাবা মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে গেটস হলেন একমাত্র ছেলে। তার বড় বোনের নাম Kristianne এবং ছোট বোনের নাম Libby.

ছোটবেলা থেকেই বিল গেটস এর বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল বাবার মত ছেলেও বড় হয়ে ল-ইয়ার হবে, অনেক নাম কামাবে। ১৩ বছর বয়েসে বিল গেটস কে ভর্তি করে দেয়া হয় বাড়ির কাছের Lakeside School এ। যখন গেটস স্কুলে Eighth Grade এ উন্নীত হন তখন স্কুলের বিভিন্ন বাতিল মালপত্র বিক্রয় করে কম্পিউটার সেকশনের ছাত্রদের জন্য কয়েকটি Teletype Model 33 Computer কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্কুলটির Mothers Club.

এর ফলে গেটস তার কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর উপর পারদর্শিতা দেখানোর একটি সুযোগ পান। তার প্রোগ্রামিং এর প্রতি আগ্রহ দেখে স্কুল তাকে তার বিরক্তিকর গণিত ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেয় এবং প্রোগ্রামিং অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই কম্পিউটার সেকশনে বসেই গেটস তার প্রথম প্রোগ্রাম তৈরী করেন যার নাম রাখেন “Tic-Tac-Toe”, যে প্রোগ্রামটি কম্পিউটারের বিরুদ্ধে গেম খেলার জন্য ব্যবহার করে গেটস সবাইকে চমকে দেন। বিল গেটস এর একটি জিনিস কখনোই মাথায় ঢুকতো না যে কম্পিউটারে কিভাবে সফটওয়্যার গুলো এত সহজে ইন্সটল হয়ে যায় বা কম্পিউটার সফটওয়্যারগুলোর প্রোগ্রামিং কোড কিভাবে এত সহজে পড়তে পারে। তার কাছে মনে হতে থাকে এই কম্পিউটারে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যেটা তিনি ধরতে পারছেন না। কিছুদিন পর Mothers Club থেকে স্কুলের জন্য ডোনেশন বাড়ানো হয়, যার ফলে স্কুলে আরো কিছু নতুন কম্পিউটার আসে। গেটস তখন কম্পিউটার সেকশনের অন্য ছাত্রদের নিয়ে Computer Center Corporation (CCC) এর নীতিবিরুদ্ধ PDP-10 নামে একটি Demo Operating System আবিষ্কার করে বসেন। নীতিবিরুদ্ধ হওয়ায় এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে এটিকে কম্পিউটারে ব্যবহার করায় গেটস ও তার তিন বন্ধু পল অ্যালেন, রিক ওয়েইল্যান্ড এবং কেন্ট ইভানস কে স্কুল থেকে সাময়ীক বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তারা তাদের গবেষণা চালিয়ে যান এবং আবিষ্কার করেন যে তাদের তৈরী Operating system কম্পিউটারের সুরক্ষা করতে সক্ষম এবং কোন সফটওয়্যার এ ট্রোজান থাকলে সেটাও নির্মূল করতে সক্ষম। তিনি তার গবেষণার ফলাফল স্কুলে দেখান। তার এই রিপোর্ট Computer Center Corporation (CCC) এ পাঠানো হয় এবং তারা সন্তুষ্ট হয়ে গেটস কে তাদের কম্পিউটার সেকশনের কম্পিউটার গুলোতে ইন্সটল করা সফটওয়্যার এ ট্রোজান আছে কিনা পরীক্ষা করতে বলেন।

বিল গেটস তাদের অফিসে আসা যাওয়া শুরু করেন এবং তাদের উন্নত কম্পিউটার গুলোতে সোর্স কোড এর বিভিন্ন প্রোগ্রাম নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকেন। পরবর্তী বছর কোন এক বিজ্ঞান ভিত্তিক সেমিনারে CCC গেটস ও তার চার বন্ধুকে তাদের আবিষ্কার পেশ করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। বিল গেটস এর স্কুলের কর্তৃপক্ষ তার প্রোগ্রামিং দক্ষতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাই তারা গেটস কে স্কুলের কম্পিউটার সেকশনের পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের আমন্ত্রণ জানান। গেটস এর এই মেধা ও বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়ে  ক্লাসের বেশির ভাগ মেয়েই তার সাথে সময় কাটাতে চাইতেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিল গেটস তার বন্ধু অ্যালেনের সাথে বর্তমান Intel 8008 প্রসেসরের একটি প্রোটোটাইপ Traffic counters তৈরী করতে সক্ষম হন। ধীরে ধীরে গেটস এর পরিচিতি বাড়তে থাকে। একজন মানুষ কম সময়ে কতটুকু সুনাম কামাতে পারে, তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলেন এই বিল গেটস। ১৯৭৩ সালে তাকে মার্কিন রিপ্রেজেন্টিটিভ হাউজে একজন কংগ্রেস ম্যান হিসেবে সম্মানজনক পদ দেয়া হয়।

সফলতারসূচনাঃ

১৯৭৩ সালে গেটস তার Lakeside School থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সেইবার তিনি SAT পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরের পরীক্ষায় ১৫৯০ পেয়েছিলেন! তারপর ১৯৭৩ সালেই তিনি শরৎ সীজনে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই তার সাথে পরিচয় বর্তমান মাইক্রোসফট এর সহকারী পরিচালক Steve Ballmer এর সাথে।

হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালের দ্বিতীয় বছরে বিল গেটস কিছু অসংজ্ঞায়িত প্রোগ্রামিং সমস্যার “Pancake sorting” নামে একটি সিরিজ সমাধান তৈরী করেন, যেটি উপস্থাপন করেন তারই প্রফেসর Harry Lewis. ৩০ বছরের মধ্যে বিল গেটস এর সমাধানটিকেই সবচাইতে দ্রুততম সিরিজ সমাধান বলে অ্যাখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে তার এই সমাধান নিয়েই হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী Christos Papadimitriou তার গবেষণা চালান এবং তা পেপারব্যাক হিসেবে প্রকাশ করেন।

যদিও বাবা মা চেয়েছিলেন ছেলে বড় হয়ে ল-ইয়ার হউক কিন্তু গেটস এর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পরেও কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না যে তিনি কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন। তবে তার মন ওই কম্পিউটারেই পড়ে থাকতো। শেষে একদিন গেটস তার বন্ধু পল অ্যালেন এর সাথে যোগাযোগ করলেন। আর বন্ধুর আমন্ত্রণেই সাড়া দিয়ে অ্যালেন ১৯৭৪ সালের গ্রীষ্ম সীজনে এসে ভর্তি হলেন হাভার্ডে। পরের বছরই গেটস ও অ্যালেন এর করা প্রোটোটাইপ এর ভিত্তিতে প্রকাশিত Intel 8080 CPU এর আরেকটি এডিশন MITS Altair 8800 বের হল বাজারে। সেই থেকেই দুই বন্ধু স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন নিজেদের একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করার!

Altair 8800 এর প্রকাশনার পর গেটস যোগাযোগ করলেন মাইক্রো কম্পিউটার প্রস্তুতকারী Micro Instrumentation and Telemetry Systems (MITS) এর সাথে; এটা জানানোর জন্য যে তিনি এই এডিশনটিতে নতুন কিছু প্রোগ্রাম যোগ করতে চান। MITS প্রেসিডেন্ট Ed Roberts এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গেটস কে অনুরোধ করেন একটি ডেমো তৈরী করার জন্য। গেটস BASIC নামে একটি ডেমো তৈরী করে দেয়ার পর MITS এটিকে Altair 8800 এ ব্যবহার করে বিস্ময়কর ফলাফল পায়। পরবর্তীতে তার এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে ছাড়া হয় নতুন এডিশন Altair BASIC। গেটস এর বন্ধু পল অ্যালেনকে MITS তাদের কোম্পানিতে ভাড়া করে। গেটস অ্যালেন কে সাহায্য করার জন্য হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছুদিনের ছুটি নেন। তারা দুইজন মিলে তাদের পার্টনারশীপের নাম দেন “Micro-Soft” এবং নিউ মেক্সিকোর “Albuquerque” নামক জায়গায় তাদের প্রথম অফিস খোলেন। ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বর স্টেট অফ নিউ মেক্সিকোর বাণিজ্য সচিবের সুপারিশে MITS এর আওতায় প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে “Microsoft” এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠা হয় বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় কম্পিউটার ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এর।

মাইক্রোসফটের তৈরী BASIC শখের কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রী হোম এডিশন হিসেবে ছাড়া হয়েছিল। এইবার বিল গেটস সিদ্ধান্ত নিলেন এটিকে প্রি-মার্কেট কপি হিসেবে বাজারজাত করার। ১৯৭৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী গেটস পত্রিকায় “Open Letter to Hobbyists” নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন, যেখানে তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যে MITS এটিকে এইবার সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক ভাবে বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে। অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এটিকে নিছক পাগলামি বলে মনে হলেও গেটস বিশ্বাস করতেন তার আবিষ্কার একদিন জনপ্রিয়তা পাবেই।

Microsoft এর পথ চলার শুরুঃ

১৯৭৭ সালের শেষের দিকে মাইক্রোসফট MITS থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এবার প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন সিস্টেমের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করতে থাকে। এইবার গেটস ভাবেন তার নিজ দেশে কোম্পানিকে নিয়ে যাওয়া উচিত। ব্যস! যেই চিন্তা সেই কাজ! মাইক্রোসফটকে নিউ মেক্সিকো থেকে স্থানান্তর করে নিয়ে আসা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের Bellevue নামক স্থানে। তিনি তার কোম্পানির জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য লোন চেয়েছিলেন, কিন্তু নতুন বলে কেউ লোন দিতে রাজি হয় নি। কিন্তু গেটস হাল ছাড়েন নি। এক সময় তিনি লোন পেয়ে যান কাছের একটি ব্যাংক থেকে। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি!

১৯৮০ সালে IBM তাদের নতুন কম্পিউটার IBM PC এর প্রোগ্রামিং এর কাজ মাইক্রোসফটের উপর দেয়। কোম্পানি গেটস এর কাছে তার BASIC সিস্টেমটি তাদের নতুন কম্পিউটারে ব্যবহারের অনুমতি চায়। এই সময় IBM জানায় যে তারা একটি নতুন ধরণের Operating System তাদের কম্পিউটারে ইন্সটল করতে চায়। গেটস তাদেরকে সেই সময়কার বিখ্যাত Operating System সিস্টেম নির্মাতা কোম্পানি Digital Research (DRI) এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। IBM এর সাথে Digital Research (DRI) এর আলোচনা বেশিদিন এগোয়নি, কারণ Digital Research (DRI) এর লাইসেন্স সম্পর্কিত শর্তাবলি পছন্দ হয় নি IBM কর্মকর্তাদের। ঠিক এই সময় IBM রিপ্রেজেন্টেটিভ জেক স্যামস, গেটস কে অনুরোধ করেন মাইক্রোসফট থেকে একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরী করার জন্য। চিন্তাটি গেটস এর মাথায় ঢুকে যায়, কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন না কিভাবে শুরু করা যায়। কয়েক সপ্তাহ পর “86-DOS (QDOS)” নামে একটি ডেমো গেটস কে দেখানো হয় যেটি তখনকার Digital Research (DRI) তৈরী করা CP/M Operating System এর মত। এই সময় Seattle Computer Products (SCP) এর CEO, Tim Paterson মাইক্রোসফটের সাথে ্যৌথভাবে কাজটি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গেটস যেন দিশা পেলেন, তিনি বিনা দ্বিধায়SCP এর সাথে চুক্তি করেন এবং কিছুদিন পরই মাইক্রোসফট এককালীন ৫০০০০ ডলারের বিনিময়ে PC-DOS নামের একটি অপারেটিং সিস্টেম IBM এর কাছে হস্তান্তর করে।

গেটস অপারেটিং সিস্টেম হস্তান্তর করলেও এটির স্বত্ব নিজের কাছেই রাখেন। কারণ IBM হয়তো এটি মাইক্রোসফটের পরিবর্তে নিজেদের প্রোডাক্ট বলে বাজারে ছাড়তে পারে এই ভয় ছিল তার মনে। এইবার তিনি এই অপারেটিং সিস্টেমটিকে নিজেদের পণ্য হিসেবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

Microsoft Windows :

২০ নভেম্বর, ১৯৮৫ সালে বিল গেটস এর স্বপ্ন সত্যি হল। মাইক্রোসফট বাজারে ছাড়লো নিজেদের তৈরী অপারেটিং সিস্টেম Microsoft Windows। এবারও IBM এর অন্য একটি কম্পিউটারের জন্য এই অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করা হয়েছিল যার প্রাথমিক নাম ছিল OS/2। ১৯৯১ সালে এই OS/2 কে IBM এর আওতা থেকে মুক্ত করে Microsoft Windows নামে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে বাজারজাত শুরু করে মাইক্রোসফট। এরপর থেকে ধীরে ধীরে Microsoft Windows এর আরো এডিশন বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বিল গেটস। আস্তে আস্তে বাজারে আসলো মাইক্রোসফটের Microsoft Windows অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন এডিশন। জনপ্রিয়তা পেতে লাগলো কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে। পেছনে ফেলে দিল Digital Research (DRI) এর তৈরী অপারেটিং সিস্টেম CP/M কে।

সাফল্যেরস্বীকৃতিঃ

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বাজারে আসার পর বিল গেটস কে আর পেছনে তাকাতেই হয় নি! ধীরে ধীরে তার প্রচার প্রসারের পাশাপাশি অর্থ সম্পদ ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে! ১৯৮৭ সালে, তার ৩২ তম জন্মদিনের ঠিক আগের দিন Forbes পত্রিকার যুক্তরাষ্ট্রের ৪০০ বিলিওনিয়ারের তালিকায় উঠে আসে বিল গেটসের নাম। তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয় বিশ্বের সবচাইতে কমবয়সী আত্মপ্রচেষ্টায় হয়ে ওঠা বিলিওনিয়ার নামে। তখন তার সম্পদের পরিমান ছিল ১.২৫ বিলিওন মার্কিন ডলার, তার এই স্বীকৃতির কয়েকদিন পূর্বেই তার ধন সম্পদের তালিকায় যোগ হয়েছিল আরো ৯০০ মিলিওন মার্কিন ডলার।

১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত Forbes পত্রিকার জরিপে ১০১ বিলিওন ধন সম্পত্তির দরুন তাকে বিশ্বের এক নাম্বার ধনী ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়। শুধু তাই নয়, বিশ্বের ধনী ব্যক্তির তালিকায় টানা ১৬ বছর বিল গেটসের নাম ছিল শীর্ষে।

বিশ্বের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন Time বিল গেটস কে “One of the 100 people who most influenced the 20th century” এর তালিকায় স্থান দেয়। শুধু তাই নয়! ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে তিনি এই ম্যাগাজিনের  “One of the 100 most influential people” এর তালিকায় নিজের স্থান করে নেন। Time ম্যাগাজিন তাকে ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা কে ২০০৫ সালে “Persons of the Year” এর পুরষ্কারে ভূষিত করে। ২০০৬ সালে এই ম্যাগাজিনের করা “Heroes of our time” জরিপে বিল গেটস সেরা দশে নিজের জায়গা করে নেন।

এছাড়া ১৯৯৯ সালে Sunday Times পত্রিকার করা “CEO of the year” এ বিল গেটস এর নাম উঠে আসে। ১৯৯৪ সালে “Top 50 Cyber Elite” এ বিল গেটসের নাম উঠে এসেছিল সবার শীর্ষে। ২০০১ সালে লন্ডনের The Guardian তাদের ”Top 100 influential people in media” এর তালিকায় বিল গেটস কে স্থান দেয়।

১৯৯৪ সালে বিল গেটসকে British Computer Society বিংশ শতাব্দির অগ্রপথিক” হিসেবে সম্মানিত করে। ২০০০ সালে বিল গেটসকে নেদারল্যান্ডস এর  Nyenrode Business Universiteit, Breukelen সর্বপ্রথম সম্মানজনক ডক্টরেট উপাধিতে ভূষিত করে। তার পাশাপাশি অন্য যেসব বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এ উপাধি দিয়েছিল সেগুলো হল :

1) Royal Institute of Technology, Stockholm, Sweden. (2002)

2)  Waseda University, Tokyo, Japan. (2005)

3) Tsinghua University, Beijing, China. (2007)

4) Harvard University. (2007)

5) Karolinska Institutet, Stockholm. (2008)

6) Cambridge University. (2009)

এছাড়া ২০০৭ সালে বিল গেটসকে Peeking University এর অনারারি ট্রাস্টি ঘোষণা করা হয়। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে “Honorary Knight Commander of the Order of the British Empire (KBE)”  পদকে ভূষিত করেন। ফুলের একটি বিশেষ পোকার বৈজ্ঞানিক নাম বিল গেটসের সম্মানে Eristalis gatesi রাখা হয়।

২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস কে মেক্সিকোর বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য “Order of the Aztec Eagle” পুরষ্কার প্রদান করা হয়। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে The Franklin Institute বিল গেটসের সাফল্য এবং গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ “2010 Bower Award” পুরষ্কারের জন্য বিল গেটস কে মনোনীত করে। ২০১০ সালে Boy Scouts of America তাকে Silver Buffalo Award প্রদান করে। Boy Scouts থেকে এই পুরষ্কার একমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদেরই দেয়া হয়, যুবা বয়সে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।

সর্বশেষ ২০১১ সালে Forbes magazine বিল গেটস কে বিশ্বের পঞ্চম সর্বাধিক ক্ষমতাধর মানুষ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিনিয়োগকারী বিলগেটসঃ

সাফল্য যেন বিল গেটসের ভাগ্যে সর্বদাই লেখা হয়ে আছে! তিনি এই পর্যন্ত যেই কয়টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন প্রত্যেকটি কোম্পানিই সফল হিসেবে স্বীকৃত! এক নজর দেখে নেয়া যাক মাইক্রোসফট ছাড়া বিল গেটসের বিনিয়োগকৃত কোম্পানীগুলো :

1) Cascade Investments LLC (A private investment and holding company)

2) bgC3 (A new think-tank company)

3) Corbis (A digital image licensing and rights services company)

4) TerraPower (A nuclear reactor design company)

 

বিল গেটসএর ব্যক্তিগত জীবনঃ

এত খ্যাতি, এত সম্মানের নায়ক বিল গেটস ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাধাসিধে জীপন যাপন করতে পছন্দ করেন। ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারী তিনি তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস কে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে যারা হল মেয়ে Jennifer Katharine ও Phoebe Adele এবং একমাত্র ছেলে Rory John। ওয়াশিংটনের মেডিনার লেক ওয়াশিংটন এ পর্বত মুখী ছিমছাম বাড়ি “The Gates’s home” এ বাস করেন গেটস পরিবার। কিং কাউন্টি এর ২০০৬ এর পাবলিক রেকর্ড অনুসারে বিল গেটস মোট সম্পত্তি এর অর্থমূল্য প্রায় ১২৫ মিলিওন মার্কিন ডলার। যার প্রপার্টি ট্যাক্স প্রায় ১০ মিলিওন মার্কিন ডলার! ৬৬০০০ বর্গফূটের এই এস্টেটে বিল গেটস এর রয়েছে ৬০ ফুট গভীর সুইমিং পুল আন্ডাওয়াটার মিউজিক সিস্টেম সহ। এছাড়াও রয়েছে ২৫০০ বর্গফুটের ব্যায়ামাগার ও ১০০০ বর্গফুটের ডাইনিং স্পেস। বিল গেটসের ব্যক্তিগত সংগ্রহের তালিকায় আছে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির বইসমগ্র যেটি তিনি ৩০ মিলিওন ডলার দিয়ে ১৯৯৪ সালে একটি নিলাম থেকে কিনেছিলেন। সাধে কি আর তাকে বিশ্বের এক নাম্বার ধনী ব্যক্তি বলা হয়??

লেখক বিলগেটসঃ

একজন সফল ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি বিল গেটস লেখালেখিও করেন প্রচুর। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার অসংখ্য গবেষণামূলক প্রবন্ধ, জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে মাইক্রোসফট এক্সিকিউটিভ Nathan Myhrvold ও সাংবাদিক Peter Rinearson এর সাথে যৌথভাবে লেখা তার বই The Road Ahead প্রকাশিত হয়। ১৯৯৯ সালে গেটসের ব্যবসায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক বই Business @ the Speed of Thought প্রকাশিত হয়।

এছাড়া বিল গেটস কে নিয়ে অনেক ডকুমেন্টারি ফিল্ম হয়েছে যার মধ্যে ২০১০ সালে তৈরী Waiting for “Superman” এবং বিবিসি ডকুমেন্টারি সিরিজের The Virtual Revolution উল্লেখযোগ্য।

বিল গেটস অনেক মানুষের জীবনেই আদর্শ হয়ে উঠেছেন। তার অনেক কথাই আজকাল মানুষ বাণী হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে। চলুন জেনে নেই তেমনই কিছু বাণী :

1. I really had a lot of dreams when I was a kid, and I think a great deal of that grew out of the fact that I had a chance to read a lot. – Bill Gates

2. I’m a great believer that any tool that enhances communication has profound effects in terms of how people can learn from each other, and how they can achieve the kind of freedoms that they’re interested in. – Bill Gates

3. If I’d had some set idea of a finish line, don’t you think I would have crossed it years ago? – Bill Gates

4. If you can’t make it good, at least make it look good. – Bill Gates

5. If you think your teacher is tough, wait until you get a boss. He doesn’t have tenure. – Bill Gates

6. Intellectual property has the shelf life of a banana. – Bill Gates

7. It’s fine to celebrate success but it is more important to heed the lessons of failure. – Bill Gates

8. Life is not divided into semesters. You don’t get summers off and very few employers are interested in helping you find yourself. – Bill Gates 

9. Life is not fair; get used to it. – Bill Gates

10. Success is a lousy teacher. It seduces smart people into thinking they can’t lose. – Bill Gates

11. Television is not real life. In real life people actually have to leave the coffee shop and go to jobs. – Bill Gates

12. We’ve got to put a lot of money into changing behavior. – Bill Gates

13. Your most unhappy customers are your greatest source of learning. – Bill Gates

14. When the PC was launched, people knew it was important. – Bill Gates

15. I always choose a lazy person to do a difficult task. Because I know he will find an easy way to do it! – Bill Gates 

এই হলেন বিল গেটস। বিশ্বের এক নম্বর ধনী এবং সফলতার জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে যদি কাউকে অ্যাখায়িত করতেই হয়, তাহলে এই ব্যক্তি নিঃসন্দেহে তার যোগ্য! আপনার কি ধারণা ?

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s